Published : 07 Sep 2025, 10:15 PM
মূলধারার গণমাধ্যমে ‘আস্থাহীনতার’ কারণে মানুষ তথ্যপ্রবাহের বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
তিনি বলছেন, অতীতে গণমাধ্যমে থেকে যারা ‘ফ্যাসিবাদী’ তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন, পাঠকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে তাদের বিচার করতে হবে।
নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তথ্য উপদেষ্টা এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
রোববার ঢাকার তথ্য ভবনে ডিএফপির সভাকক্ষে এ সভা হয়, যেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও বার্তাকক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “আস্থার সংকট কী ভয়ংকর দেখুন। মূলধারার লোগোগুলো ব্যবহার করে অনেক সময় ফেইক অ্যাকাউন্ট ও পেইজ খুলে প্রচার চালাচ্ছে। যমুনা টিভি, ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের নামে এসব চালানো হচ্ছে। এটা হচ্ছে আস্থার সংকটের প্রতিফলন।
“মূলধারার সংবাদমাধ্যম আমাদের রিপোর্টটা ভালো মতো দেবে না, সুতরাং মিডিয়ার সঙ্গে একটু মজা করি—বিষয়টা হচ্ছে এরকম।”
দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ‘ক্ষমাপ্রার্থনা ও অনুতাপের সংস্কৃতি থাকা প্রয়োজন’ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “এ চর্চাটা আমাদের সমাজে নেই। সে কারণে আবারও মারামারি খুনোখুনির আশঙ্কা রয়ে গেছে।
“গণমাধ্যমে আস্থাটা ফেরাতে হবে। আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করা চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ অপরাধ না করলে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে মামলা-গ্রেপ্তারের পক্ষে আমি নই। কিন্তু তাদের মধ্যে নৈতিক অনুতপ্ততা আসাটা জরুরি। এখন পর্যন্ত কেউ এটা করেনি।”
তিনি বলেন, “ক্ষমা প্রার্থনাটা খুব জরুরি, কিন্তু আমরা কখনও প্রার্থনা করি নাই। আমাদের দেশে এটা অতীতেও হয়নি। এটা যদি না হয়, তাহলে আগের মতো মারামারি খুনোখুনি শুরু হয়ে যাবে।”
গণমাধ্যমকে পাঠকের কাছেই বেশি দায়বদ্ধ থাকতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বেশি। কারণ জনগণ তাদের পাঠক; জনগণ আপনাদের বিচারক। আস্থার সংকট দূর হলে মব ভায়োলেন্স, নিরাপত্তাহীনতা কেটে যাবে।”
নির্বাচনের সময় কী কী উদ্যোগ নিলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া যাবে, সেবিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের পরামর্শ আশা করেন।
ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে তিনি বলেন, “কাউকে ‘ভিলিফাই’ করতে হলে এক ঘণ্টার ভেতরেই সেটা হয়ে যায়। এমনও হয়েছে, নিউজের পর তিনি আর জনসম্মুখে আসতে পারছেন না। ভুল নিউজ প্রত্যাহার করা হলেও তার ক্ষতি থেকেই যায়।”
উদাহরণ হিসেবে সম্পাদক পরিষদের একটি বিবৃতি এবং গণমাধ্যমে তার প্রচার নিয়ে নিজের আক্ষেপের কথা তুলে ধরেন উপদেষ্টা।
“সম্পাদক পরিষদ সম্প্রতি বলেছে, এই মন্ত্রণালয় আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করছে। গণমাধ্যম সুরক্ষা নীতি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা মূলত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ করছি। এনিয়ে এখন একটা বিরূপ (ডিসটর্স) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আসলেই কী আওয়ামী লীগের নীতি অনুসরণ করা শুরু করেছে? এসব বিষয়ে আমাদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি।”
সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি মূল ধারার গণমাধ্যমেও ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “এগুলো মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করেছে। মব ভায়োলেন্সের সঙ্গে মিডিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক, ক্ষোভ বিক্ষোভ থেকে এটা হচ্ছে। একটা নিউজ ছাড়ার পর দেখা যাচ্ছে, লোকেরা রাস্তায় নেমে পড়ছে; গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার হচ্ছে। সেটা সাম্প্রদায়িতকতার জায়গা থেকে কিংবা ধর্মীয় কিংবা সেক্টারিয়ান জায়গা থেকে হতে পারে।”
উপদেষ্টা বলেন, “আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে মিলে আমরা একটা অনলাইন নীতিমালা করার চেষ্টা করছি। এটা হয়ে গেলে কিছুটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স করতে পারবো।”
সরকার কিছু ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট চেকিং শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি কাজে ‘বায়াসনেস’ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে মূল ধারার গণমাধ্যমগুলো নিজ উদ্যোগে ফ্যাক্ট চেকিং শাখা চালু করতে পারে।”
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও অতিরিক্ত সচিব মো. কাউসার আহাম্মদও উপস্থিত ছিলেন।