Published : 06 Jul 2026, 01:47 AM
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ‘অসংযত আচরণ ও ভয়ভীতি’ দেখানোর অভিযোগে চারজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে (ডিএজি) কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ চার ডিএজি হলেন- মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন), মো. রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মুহাম্মদ মাসুদ রানা ও মো. আশিকুজ্জামান (নজরুল)।
রোববার অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে তার কার্যালয় থেকে তাদের কারণ দর্শানোর এ নোটিস দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন একজন কর্মকর্তা, যার নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আরেকজন ডিএজি নোটিস দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, নোটিসটি হাতে না পেলেও তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে তা জেনেছেন। একই সঙ্গে তারা হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে রোববার অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে একটি বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়েছেন।
নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, রোববার পৌনে ২টার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কর্মরত থাকাকালীন বিচারপ্রার্থী ও অন্যান্য আইন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই চার ডিএজি তার অফিস কক্ষে ‘অসংযত আচরণ’ করেন। তারা বিভিন্ন ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে বলে হুমকি দেন’।
চার ডিএজির ‘এসব কর্মকাণ্ড সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত’ থাকার কথা নোটিসে তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিসের জবাব দেবেন কি না এমন প্রশ্নে ডিএজি রফিকুল ইসলাম মন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নোটিসে অসদাচরণ, হুমকি কিংবা সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানোর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। উনার (অ্যাটর্নি জেনারেল) সাথে আমাদের কোনো তর্কাতর্কিও হয়নি। উনি আমাদের ডেকেছিলেন মাত্র।”
আরেক ডিএজি মাসুদ রানা বলেন, “যেহেতু এটি রাষ্ট্রের এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়। যদি কিছু হয়েও থাকে–যদিও কিছু হয়নি–কিন্তু সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার ফলে আমি মনে করি আমাদের রাষ্ট্র, সরকার এবং অ্যাটর্নি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
এমন নোটিস দেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই দাবি করে তিনি বলেন, “এই চিঠির তো মূল্যই নাই। রাষ্ট্রপতি বা সরকার পারে (শোকজ করতে)। রাষ্ট্রপতির পক্ষে সরকার পারে। উনি তো পারেন না, কারণ তিনি তো আমাকে নিয়োগ দেন নাই।”
‘অসদাচরণ ও হুমকির’ অভিযোগের বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের দাবি জানিয়ে মাসুদ রানা বলেন, “সেখানে আমরা ছিলাম, উনিই আমাদেরকে ডেকে নিয়েছিলেন। ওই সিসিটিভি ফুটেজটা আমাকে পাঠানো হলে আমি দেখতে পারতাম।”
এদিনের ঘটনার বিষয়ে তার ভাষ্য, “ডেকে নেওয়ার পর আমরা তার সঙ্গে বসে কথা বলি। কথা বলার এক পর্যায়ে আমাদের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন, 'আপনি আমাদের কোর্ট দিচ্ছেন না, আমাদের সঙ্গে অফিশিয়াল কাজকর্মের ব্যাপারে যে আচরণ করছেন, তাতে করে আমরা মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত’।"
এ বিষয়ে জানতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে মোবাইলে কল ও বার্তা দিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।