Published : 05 Aug 2026, 06:22 PM
ঢাকার দক্ষিণখানে দন্ত চিকিৎসক সারা রোকসানা পিনুকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী সোহেল রানাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামি বুধবার এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর বলেন, দুই দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার সোহের রানাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান।
আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্থানীয় তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামির স্ত্রী ‘পিনুর বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল’। এ নিয়ে আসামি তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নিষেধ করেন। তবে তার স্ত্রী ‘মানতেন না’।
আরও বলা হয়, পিনুর বোন ও বোনের মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পিনু প্রায়ই তাদের বলতেন, তার স্বামী সোহেল রানা অনেক মেয়ের সঙ্গে বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পিনু এসবে নিষেধ করলে তার স্বামী শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। প্রায়ই মেরে ফেলার হুমকি দিতেন।
“হত্যার কিছুদিন আগে পিনু তার বড় বোন সারা সুলতানা পলিকে ফোনে বলেছিলেন, ‘আপা, যদি কোনো দিন মারা যাই, তাহলে বুঝবে আমার স্বামী সোহেল রানা আমাকে মেরে ফেলেছ। তুমি নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা করবে এবং আমার স্বামীকে কোনো প্রকার ছাড় দিবে না’।”
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মামলার ঘটনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির একটি বাসা থেকে গত ৩০ জুলাই পিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
শুরুতে পুলিশ বলেছিল, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা পিনুকে হত্যা করে ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তবে জানালার যে অংশে গ্রিল কাটা হয়, সেই জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান সিআইডির সদস্যরা। এরপর বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়। ওই জুতা ছিল সোহেল রানার।
এ ঘটনায় পিনুর বোন সারাহ সুলতানা পলি ৩১ জুলাই মামলা করেন। তদন্তে নেমে পিনুর স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১ অগাস্ট তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ৩ অগাস্ট রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। সেদিন সোহেলের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
রিমান্ডের আদেশের পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে পায়ের ছাপের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, “আমার বাসার গ্রিল কেটে যদি বাইরের লোক ঢোকে, সেখানে কি আমার পায়ের ছাপ পাওয়ার কথা? এটা কোন যুক্তিতে আসলে আমি বুঝি না। আমি যদি করে থাকি (হত্যা) আমার পায়ের ছাপ ওখানে থাকবে? আমি যদি ব্যাপারটা সাজাই।”
স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, “আজকাল ফেইসবুকের যুগে কমবেশি সবার প্রতি সবার কমবেশি অভিযোগ থাকে। আমার স্ত্রী, সহধর্মিনী, ২০ বছরের সংসার আমাদের। আমার বাচ্চার মা, এটা কোনোভাবেই পসিবল না।”
সোহেল রানা উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে ডেভেলপার কোম্পানিতে সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সোহেল রানা স্ত্রী পিনুকে একা বাসায় রেখে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। কেউ আনতে না যাওয়ায় বিকালে মেয়ে বাসায় চলে আসে। সে দেখে, ঘরের দরজা খোলা, তবে চাপানো।
পিনুকে খাটের উপর চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে মেয়ে। মুখের উপর বালিশ রাখা ছিল। মেয়ে ডাকাডাকি করে কোনো শব্দ না পেয়ে বালিশ সরিয়ে ফেলে। এরপর হাত-পা ঠান্ডা ও শ্বাস বন্ধ বুঝতে পেরে বাসা থেকে আবার স্কুলে ছুটে যায়। এরপর প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে ঘটনা তার বাবাকে জানায়।