জয়শঙ্করের সফরে ‘রাজনীতি’ খোঁজা ঠিক হবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
“খালেদা জিয়ার অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় সবাই প্রতিনিধিত্ব করবেন— এটাই স্বাভাবিক এবং আমরা সেভাবেই দেখি।”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের এবারের ঢাকা সফরে আন্তঃরাষ্ট্রীয় কূটনীতি বা রাজনীতি না খোঁজার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
তিনি এ সফরকে খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
দুদেশের সম্পর্কে শীতলতার মধ্যে জয়শঙ্করের এই সফরের বিষয়ে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “এটাকে ওই ঠিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, তারপরে আপনার রাজনীতি, সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখাই উচিত হবে।
“বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে তো বটেই, আসলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে তার এক ধরনের ইমেজ আছে, যথেষ্ট পজিটিভ এবং তিনি যে একটি অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন, এটা সবাই জানেন।”
দেশে খালেদার গ্রহণযোগ্যতার কথা প্রতিবেশী দেশগুলোও স্বীকার করে বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দেশের মানুষের মাঝে তার দলমত বিশেষ এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা এবং শ্রদ্ধা-সম্মান আছে। এটা অবশ্যই তারাও, সবাই রিকগনাইজ করে, সাউথ এশিয়ার সবাই সেটাকে রিয়ালাইজ করে।
“তার মৃত্যুতে এবং তার যে অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় সবাই প্রতিনিধিত্ব করবেন, অংশগ্রহণ করবেন— এটাই স্বাভাবিক। এবং আমরা এটাকে সেভাবেই দেখি।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি যে, এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক মনোভাব সবার পক্ষ থেকেই। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন। তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল, কিন্তু উনি পুরো অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছেন এবং তারপরে ফেরত চলে গেছেন।
“এটা আমি মনে করি যে, এটা একটা ভালো জেসচার (মনোভাব), এ পর্যন্তই। এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থ খুঁজতে না যাওয়াই ভালো।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজার দিন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্বল্প সময়ের নোটিসে বুধবার ঢাকায় আসেন জয়শঙ্কর।
কয়েক ঘণ্টার সফরে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে সমবেদনা জানান তিনি; পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শোকবার্তা।
আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে উষ্ণ ভাষায় প্রশংসা করেছেন।
জয়শঙ্করের এ সফরে অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার সাক্ষাতের খবর আসেনি।
তারেকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বুধবার এক ফেইসবুক পোস্টে ঢাকা সফর নিয়ে কথা বলেন জয়শঙ্কর।
তিনি লেখেন , “ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।
“তার হাতে নরেন্দ্র মোদীর একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেছি; গভীর সমবেদনা জানিয়েছি ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে।”
তিনি আরো লেখেন, “খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ আমাদের পারস্পরিক অংশীদারত্বের বিকাশে দিকনির্দেশনা দেবে, সে বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছি।”
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের শোক প্রকাশ কেবল জয়শঙ্করের ঢাকা সফর কিংবা মোদীর চিঠিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে যান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
সেখানে শোক বইয়ে তিনি লেখেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘিরে মোদী সরকারের এসব উদ্যোগকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের প্রতি দিল্লির কৌশলগত যোগাযোগ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে কোনো কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
অবশ্য কয়েক দিন আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সম্পর্কের টানাপড়েনে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনা এবং ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্পর্ক আরও খারাপ করে তোলে।
এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিফিংয়ে এসে দুদেশের সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ওয়ান-টু-ওয়ান, ওই রকমভাবে কোনো কথাবার্তা বলিনি; সেরকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন, মানে পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, হাতও মিলিয়েছেন দুইজন।
“কাজেই এটাকে আপনি সৌজন্যবোধ বলবেন, যেটা সবাই মেনে চলে। তার সঙ্গে আমার যেটুকু কথাবার্তা হয়েছিল, সেটা তো আসলে রাজনীতি ছিল না, একেবারে নিতান্তই এই আয়োজন উপলক্ষে এবং অন্য সবার সামনেই। কাজেই এখানে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে কথাবার্তা আমরা বলিনি।”
আরো পড়ুন
