২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এভিয়েশন ও পর্যটনকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ায় জোর দেওয়া হচ্ছে: বিমানমন্ত্রী

“মানুষ বাংলাদেশে আসতে চায় না; এর পেছনে অনেক সমস্যা,” বিদেশি পর্যটক কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে এ মন্তব্য করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Sep 2026, 11:29 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ শুরু হওয়ার কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেছেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে এভিয়েশন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

“দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ আমরা শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা।

“এই অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে বলেছেন, দেশের আয়না হলো বিমানবন্দর। আমরা যে অবস্থান পেয়েছি, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য কাজগুলো করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

দেশে পর্যটন বিকাশে ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “মানুষ বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী নয়। এর পেছনে অনেক সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশে নদী, সমুদ্র, জঙ্গলসহ পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়নি। এ কারণে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

অংশীদারদের জন্য যেসব নিয়ম বাধা তৈরি করছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের এভিয়েশন খাতকে বর্তমান সরকার ‘ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল’ অবস্থায় পেয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “যাত্রী হয়রানি কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় লাগেজের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার প্রকল্পটি বাতিল করেছিল। বর্তমান সরকার তা পুনরায় চালু করেছে। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় যে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে জাপানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করা হয়েছে বলে মন্ত্রী তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ; সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন ও টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক।