১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অচেতন অবস্থায় উদ্ধার’ মেঘমল্লার হাসপাতালে

“তিনি বেশ কিছুদিন থেকেই হতাশাগ্রস্ত ছিলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 07:24 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেইট এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানান হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।

চিকিৎসকের বরাতে তিনি বলেন, বর্তমানে মেঘমল্লার ‘শঙ্কামুক্ত’ রয়েছেন।

হাসপাতালে থাকা তার বন্ধুরা বলছেন, সোমবার রাতের দিকে মেঘমল্লার বসু তার ফেইসবুকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত হতাশা, অপরাধবোধ, পারিবারিক বিষয় ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। 

একইসঙ্গে তিনি সাবেক প্রেমিকাকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী না করতে এবং মা ও পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের অনুরোধ জানান।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার খোঁজ করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। 

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার ‘পাকস্থলি ওয়াশ’ করেছেন।

বর্তমানে মেঘমল্লার বসু হাসপাতালের ৬০২ নম্বর কক্ষের ৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মেঘ মল্লার বসুর এক বন্ধু তমা বলেন, “আমি তার ফেইসবুক পোস্টটি দেখে খুবই চিন্তায় পড়ে যাই এবং সকল বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ফোন দিয়ে তার খবর সম্পর্কে জানতে চাইলেও কেউ তার খবর দিতে পারছিল না। 

“পরে আমাদের ক্যাম্পাসের এক বড় আপু (দোলা) আপুর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি মেঘমল্লার বসুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বেশ কিছুদিন থেকেই হতাশাগ্রস্ত ছিলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।”

এর আগে গেল ফেব্রুয়ারিতে একবার ‘অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনের’ কারণে মেঘমল্লারকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

এরপর সুস্থ হয়ে তিনি আবার রাজনীতিতে সরব হন, কিন্তু জুলাইয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে যোগ দেন নবগঠিত রাজনৈতিক প্লাটফর্ম এনপিএতে (নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন) ।

চলতি বছরের শুরুতে এনপিএ নামে নতুন প্লাটফর্মটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্ল্যাটফর্মটির সদস্য হিসেবে সেই সময় ৯৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এ প্লাটফর্মের সঙ্গে মেঘমল্লারের নাম জড়িত থাকার খবর তখনই সামনে এসেছিল।

এরপর জুলাইতে এই নেতা নিজেই ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করে এনপিএতে যোগ দেওয়ার কথা বলেন।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে সহপাঠীরা বলেছিলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই মেঘমল্লার অসুস্থ ছিলেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনের পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বামপন্থি সাতটি দলের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মেঘমল্লার। প্রায় ৫,০০০ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় হন।

ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণার সময়ই এই ছাত্রনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে তার অ্যাপেনডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।