Published : 27 Aug 2026, 09:06 PM
আলোচিত সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আবার প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারীর পক্ষে তার প্রতিনিধি জামাল হোসাইন এ মামলার আবেদন করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন বলে তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের জারিকারক নাসির উদ্দিনের।
মামলার অন্য দুই দুই আসামি হলেন- ফাতহুল বারী ও আশরাফুল ইসলাম।
বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা করে প্রথম আলোচনায় আসেন মাসদার হোসেন; যা ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। চলতি বছর তার বিরুদ্ধে মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা মেলায়’ গত এপ্রিলে মাসদার হোসেনের আইন পেশার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে বার কাউন্সিল।
বৃহস্পতিবার হওয়া মামলায় অভিযোগ করা হয়, নুরুল ইসলাম বেপারী নিয়মিত করের টাকা পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে হিসাবে কিছু অসামঞ্জস্য হওয়ায় ২০২২ সালের ১৭ মে রাষ্ট্র বাদী হয়ে তার কোম্পানির বিরুদ্ধে কমিশন, কাস্টসম এক্সাইজ ও ভ্যাট যশোর কার্যালয়ে এক কোটি দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭২২ টাকার অভিযোগ করে। এর বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ফাতহুল বারী এবং আশরাফুল ইসলাম বাদী নুরুল ইসলামকে মাসদার হোসেনের চেম্বারে নিয়ে যান। মাসদার হোসেন তাকে জানিয়ে দেন, করের টাকা শূন্য করতে এক কোটি ১০ লাখ টাকা লাগবে।
আসামিদের সঙ্গে বাদীর চুক্তি হয়, এক কোটি ১০ লাখ টাকা আসামিদের দিলে তারা করের টাকা শূন্য করে দেবে। এতে আর কোনো টাকা সরকারের কোষাগারে দিতে হবে না।
সেই অনুযায়ী ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৭ জুন পর্যন্ত চার দফায় নুরুল ইসলাম আসামিদের এক কোটি টাকার চেক দেন। আপিল করতে গিয়ে আপিলের নিয়ম অনুযায়ী মামলা মূল্যমানের ২০ শতাংশ টাকা অর্থাৎ ২০ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৪ টাকা যা চুক্তি অনুযায়ী আসামিদের দেওয়ার কথা। কিন্তু আসামিরা জোর করে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে নুরুল ইসলামকে দিতে বাধ্য করেন।
এরপর থেকে আসামিরা বাদীর সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করতে থাকেন। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিরা বাদীর অফিসে গিয়ে বলেন, মামলার করের জরিমানা শূন্য করে অর্ডার করানোর কাজ শেষ। আরও ২৫ লাখ টাকা দিলে অর্ডার স্বাক্ষর করে তার কাছে এর নকল হস্তান্তর করবে। এতে অসম্মতি জানান বাদী। পরে তারা অফিস থেকে চলে যাওয়ার সময় বলে যান, তারা কাজটি শেষ করবেন না।
পরে নুরুল ইসলাম অন্য এক আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ২০২৫ সালের ৬ অগাস্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ আদেশ হয়েছে। এরপর থেকে টাকা ফেরত চেয়ে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নুরুল ইসলাম। তবে তারা সাফ জানিয়ে দেন, টাকা ফেরত দেবেন না। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই নুরুল ইসলাম আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তারা টাকা দেবে না মর্মে জানিয়ে দেয়।