১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক এমপি মৃণাল ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

তাদের বিরুদ্ধে ১৮ মার্চ মামলা করে দুদক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2025, 05:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:15 PM

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের আলাদা মামলায় মুন্সীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও তার স্ত্রী নীলিমা দাসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারের আবেদনে পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য দিয়েছেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের সাবেক এমপি মৃণাল ও নীলিমা গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন, এমন তথ্য পেয়েছে দুদক। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। 

গত ১৮ মার্চ মৃণাল কান্তি দাস ও তার স্ত্রী নীলিমা দাসের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করে দুদক। এক মামলায় তারা দুইজনই আসামি। আরেকটিতে মৃণাল একাই আসামি।

মৃণালের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান মিরাজের করা মামলায় ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ২৩০ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার আটটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা এবং ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা তোলাসহ মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

দুদকের অভিযোগ, ‘দুর্নীতি ও ঘুষের’ মাধ্যমে অর্জিত অর্থের অবৈধ উৎস গোপন করতে সাবেক এমপি মৃণাল এসব সম্পদ ‘রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর’ করেছেন।

দুদক কর্মকর্তা জুলফিকারের করা অপর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্বামীর সহায়তায় ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন নিলীমা।

২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার ৩০টি ব্যাংক হিসাবে ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা এবং ৮ কোটি ছয় লাখ টাকা তোলাসহ মোট ১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। 

অবৈধ উৎস ‘গোপন’ করতে তিনি তার এই সম্পদ ‘রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর’ করেছেন বলে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মৃণাল ও তার স্ত্রীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালতে।

বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনে দুদক বলেছিল, মৃণাল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

মৃণালের নামে ঢাকার ধানমন্ডিতে ১৭৮৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের খোঁজ পাওয়া গেছে, যার দাম ১ কোটি টাকা। আর পূর্বাচলে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সাড়ে সাত কাঠার একটি প্লট।

এর বাইরে মোহাম্মদপুরে মৃণাল কান্তির স্ত্রী নীলিমার নামে সাড়ে ১০ কাঠার ওপর একটি বহুতল ভবনের খোঁজ মিলেছে।

পুরনো খবর:

অবৈধ সম্পদ: দুদকের মামলায় স্ত্রীসহ সাবেক এমপি মৃণাল কান্তি দাস আসামি