১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলা একাডেমির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সভায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ জনকে বাংলা একাডেমি সাম্মানিক ফেলোশিপ দেওয়া হয়।

বাংলা একাডেমির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Dec 2022, 06:36 PM

Updated : 23 Dec 2022, 06:36 PM

পুরস্কার ও ফেলোশিপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৫তম বার্ষিক সভা।

শুক্রবার রাজধানীতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই সভা হয়।

সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বাংলা একাডেমির পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত ‘গুণী’ ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট তুলে ধরেন। একাডেমির সদস্যরা বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য রাখেন।

বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, "বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক-প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামো এবং গবেষণাগত বিপুল সংখ্যক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অনন্য উত্তরাধিকার বাংলা একাডেমি অতীত, বর্তমান ও আগামীর মধ্যে সেতুবন্ধ নির্মাণের কাজ করে চলেছে।"

তিনি বলেন, "বার্ষিক সাধারণ সভায় সারাদেশ থেকে আগত ফেলো, আজীবনসদস্য এবং সাধারণ সদস্যবৃন্দ বাংলা একাডেমির ভবিষ্যৎ রূপকল্প নির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে আমরা আশাবাদী। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এগিয়ে যাব।"

সভাপতির বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, "বাংলা একাডেমি দেশ ও জাতির গর্ব ও অহংকারের প্রতীক, আমাদের সবার প্রাণের প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশের সঙ্গে বাংলা একাডেমি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

“সাধারণ সভায় সারাদেশ থেকে আসা ফেলো, জীবনসদস্য এবং সদস্যবৃন্দ বাংলা একাডেমির সঙ্গে সঙ্গে দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ধারণা এবং মতামত তুলে ধরেন, যা আমাদের প্রগতিশীল অভিযাত্রাকে তরান্বিত করে।"

ফেলোশিপ ও পুরস্কার পেলেন যারা

সভায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ জনকে  বাংলা একাডেমি সাম্মানিক ফেলোশিপ ২০২২ এবং বাংলা একাডেমি পরিচালিত কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার-২০২২, সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার-২০২২, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার-২০২২, সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ দেওয়া হয়।

এ বছর বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০২২’প্রাপ্তরা হলেন-

·         অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক (শিক্ষা)

·         অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান (বিজ্ঞান)

·         অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন (চিকিৎসা)

·         নাসির আলী মামুন (আলোকচিত্রশিল্প)

·         হামিদুজ্জামান খান (ভাস্কর্য/চিত্রকলা)

·         জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় (সংস্কৃতি)

·         ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (সমাজসেবা) 

সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পেয়েছেন রাজিয়া সুলতানা। গবেষক ইসরাইল খান পেয়েছেন সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০২২। কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পেয়েছেন ছড়াকার সিরাজুল ফরিদকে। অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার-২০২২ পেয়েছেন মামুনুর রশীদ।

পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।