১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: অধ্যাদেশের দাবিতে ফের সড়কে সাত কলেজ

"আমরা চূড়ান্ত অধ্যাদেশ চাই, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আইনি ভিত্তি চাই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jan 2026, 02:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে তারা বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্তীরা টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় আটকে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন  সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

এদিন তাঁতীবাজার মোড়ও অবরোধ করার কথা আছে। ইতোমধ্যে কবি নজরুল আর সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিক্টোরিয়া পার্কে জড়ো হওয়ার খবর মিলেছে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চূড়ান্ত অধ্যাদেশ চাই, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আইনি ভিত্তি চাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারি মাসেই অধ্যাদেশ জারি হবে বলেছিল। কিন্তু তা হয়নি। 

“আমরা দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারি করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”

মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মো. জুয়েল রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ চাই। অনেক টালবাহানা আমাদের নিয়ে করেছেন। এখন অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আমাদের একাডেমিক পরিচয় দিন।”

এর আগে বুধবার সায়েন্স ল্যাবরেটরি, টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী আমতলী এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া না মেলায় পরদিনও অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির কথা বলেছিল।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশিত হয়, যেটির প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করছেন কলেজগুলোর শিক্ষকরা। তাদের আশঙ্কা, এ খসড়া চূড়ান্ত হলে তাদের পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।

কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে বলছেন, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে না।

খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা 'স্কুলিং' কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।

এ খসড়া নিয়ে বিভক্তি দেখা দিলে তা পরিমার্জন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিমার্জিত খসড়াটি মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।