Published : 01 Jun 2026, 11:35 PM
বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক-বদলের সাক্ষী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের মরদেহ রাজধানীর ধানমন্ডিতে জানাজা শেষে নেওয়া হয়েছে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে।
সোমবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজার পর তার মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে সেখানেই থাকবে মরদেহ। মঙ্গলবার তার কফিন নেওয়া হবে জন্মস্থান ভোলায়।
জেলার দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোরালিয়া গ্রামে মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হবেন তোফায়েল আহমেদ। এর আগে ভোলা জেলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে আবার তার জানাজা হবে।
এদিন সন্ধ্যায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাজায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেকমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ অনেকেই তার জানাজায় হাজির হন।

জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে সেখানে উপস্থিত অনেকে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ এলাকা স্লোগানে ভরে ওঠে। তখন উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠেন। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ।
জানাজার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম বলেন, “কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ ছিলেন উনি। ১৯৬৯ থেকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে উনার অবদান অপরিসীম। সেই সময় বাংলাদেশের রাজনীতির যে টানাপড়েন এবং রাজনীতির যে উত্থান-পতন সেখানে উনি অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত ছিলেন।
“অত্যন্ত সাহসী এবং নেতৃত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন। অসাধারণ পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন।”
শামীম বলেন, “যখন প্রথমবার পার্লামেন্ট গিয়েছিলাম, আমরা ভালো বক্তব্য দিলে উনি আমাদেরকে এসে উৎসাহ দিতেন। উনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে, দলমত নির্বিশেষে সকলের উনাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত।”

তোফায়েল আহমেদের জানাজা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে হওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকার থেকে সে উদ্যোগটা নেওয়া উচিত ছিল।”
ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৮৩ বছর বয়সে সোমবার বিকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
হাসপাতালটিতে আট মাস আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।