Published : 20 Jul 2025, 06:34 PM
ঢাকায় জাতিসংঘকে মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
রোববার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা ‘কমিশন না সার্বভৌমত্ব? সার্বভৌমত্ব সার্বভৌমত্ব’; ‘গাজায় যখন মানুষ মরে, মানবাধিকার কী করে?’; ‘মানবাধিকার কমিশন, মানি না, মানবো না’; ‘শ্রীলঙ্কা যখন মানেনি, বাংলাদেশও মানবে না’সহ নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিদ হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা যে জুলাই অভ্যুত্থান করেছিলাম, তার মূল মোটিভেশন ছিলে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে।
“শেখ হাসিনা বিভিন্ন সংস্থা ও এজেন্সির মাধ্যমে শাসন করেছিলেন । আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদী শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য কায়েম করার জন্য বিভিন্ন দেশে তাদের সংস্থা স্থাপন করে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে জাতিসংঘ আধিপত্য কায়েম করতে চাচ্ছে। তাই আমার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এমওই বাতিল করার জন্য।”
আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা খাতে অস্থিরতা তৈরি করবে। এজন্য আমরা মাঠে নেমেছি।”
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) কার্যালয়ে স্থাপনের একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকে গত ১০ জুলাই অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এরপর ১৮ জুলাই জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনেরের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার ফলকার টুর্ক এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন। এতে তিন বছরের জন্য কার্যালয় স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
সেদিন ওএইচসিএইচআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলে, বাংলাদেশে মানবাধিকারের ‘উন্নয়ন ও সুরক্ষার’ বিষয়কে সমর্থন দিতে তারা এই কার্যালয় খুলবে।