১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরকে প্রস্তুত করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

“প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।”

নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরকে প্রস্তুত করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 05:54 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টকে (পিজিআর) আরও দক্ষ ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পিজিআরের সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

বাসস জানায়, রোববার ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিচ্ছিলেন রাষ্ট্রপতি। 

তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। 

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, দক্ষ ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, পিজিআর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ‘বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার’ ইউনিট। রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, বিদেশি অতিথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

পিজিআরের সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। 

তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।”

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে পিজিআর ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও পিজিআরের সদস্যদের ‘সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল’ থাকতে হবে।

বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতায় স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এর আগে রাষ্ট্রপতি পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন এবং রেজিমেন্টের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, বঙ্গভবনের সচিবরা, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পিজিআরের কমান্ডার এবং সর্বস্তরের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।