Published : 30 Aug 2025, 08:18 PM
জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদির জন্য পছন্দের খাবার নিয়ে আদালতে এলেও খাওয়ানোর অনুমতি পায়নি পরিবার।
পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
২টা ৫৬ মিনিটের দিকে তাকে মাস্ক, হেলমেট, হাতকড়া ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। বিচারক ওঠেন এর মিনিট দুয়েক পর।
তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এছাড়া তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেন তার মা, বোন ও স্ত্রী। তারা সঙ্গে নিয়ে আসা খাবার তৌহিদকে খাওয়ানোর অনুমতি চান। মাইটিভির পরিচালক ও ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে তার ডিভিশনের আবেদনও জানান।
শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের জন্য ১৫ মিনিট সময় দেন। খাবার খাওয়ানো বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি। তবে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশনের আদেশ দেন বলে জানান প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শরীফুজ্জামান।
আদালতকে নিজের অসুস্থতার কথা জানান তৌহিদ আফ্রিদি। তার যাবতীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন আদালত।
৩ টা ১০মিনিটের দিকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা তৌহিদ আফ্রিদির সাথে কথা বলতে যান মা আসফিয়া উদ্দিন, বোন নিশাত তাসনিম প্রমি এবং স্ত্রী রিশা।
তৌহিদ আফ্রিদিকে কাছে পেয়ে মা বুকে টেনে নেন। মাথায়-বুকে হাত বুলিয়ে দেন। বোনও তাকে আদর করে দেন; ভাইকে পানির বোতল এগিয়ে দেন। স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন তৌহিদ।
তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে তার চাচীও কথা বলেন; তাকে কাঁদতে দেখা যায়। চাচীকে শান্তনা দেন তৌহিদ আফ্রিদি। চাচী কান্নারত অবস্থায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
এরপর আবার মা, বোন, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তৌহিদ আফ্রিদি। অন্যান্য স্বজনের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
কি খাবার নিয়ে এসেছেন জানতে চাইলে তার চাচী জানান, “তৌহিদ আফ্রিদির কেএফসির খাবার পছন্দ করে; চিকেনটা ওর পছন্দ। কেএফসির খাবার নিয়ে আসা হয়েছে।”
তবে অনুমতি না মেলায় সেসব খাবার খেতে পারেননি তৌহিদ আফ্রিদি।
বিকাল সাড়ে ৩টার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তৌহিদকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত রোববার রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তার ৫ রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
গত ১৭ অগাস্ট গুলশান থেকে মাইটিভির চেয়ারম্যান তৌহিদ আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২৩ অগাস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।