২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের সিনেমা এলে ক্ষতি দেখছেন না তথ্যমন্ত্রী

পাকিস্তানে ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানির পর হলের সংখ্যা ৩০-৩৫ থেকে বেড়ে ১২০০ হয়েছে, উদাহরণ দিয়ে বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Apr 2023, 07:50 PM

Updated : 27 Apr 2023, 11:34 AM

বছরে ১০টি ভারতীয় সিনেমা আমদানি হলে বাংলাদেশের সিনেমার কোনো ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর আগে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের নেতারা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, "আমাদের দেশে চলচ্চিত্র শিল্প ইতোমধ্যেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ৭০টির বেশি ছবি মুক্তি পেয়েছে, যা গড়ে প্রতি সপ্তাহে একটির বেশি। ঈদ উপলক্ষে সম্ভবত আটটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। একটি ছবি একশ সিনেমা হলে একযোগে মুক্তি পেয়েছে। অর্থাৎ চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

“হিন্দি সিনেমা আমদানির বিষয়ে প্রদর্শক সমিতি বহুদিন ধরে বলে আসলেও চলচ্চিত্র অঙ্গণের সব সমিতি বিশেষ করে শিল্পী সমিতি একমত না হলে আমি পদক্ষেপ নিতে রাজি হইনি। অবশেষে আপনারা শিল্পী সমিতিকে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পেরেছেন, এজন্য অভিনন্দন।”

হিন্দি সিনেমা আমদানি নিয়ে কয়েক মাস ধরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শেষে গত ১১ এপ্রিল একগুচ্ছ শর্ত বেঁধে দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এর ফলে দেশের হলগুলোয় হিন্দি সিনেমা দেখানোর বাধা কেটেছে।

তবে শর্ত হল, প্রথম বছরে দশটি উপমাহাদেশীয় সিনেমা দেশে আনতে হলে সমান সংখ্যক বাংলাদেশি সিনেমা রপ্তানি করতে হবে। হলে দেখানোর আগে বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে হবে। এছাড়া আরও কিছু শর্ত রাখা হয়েছে সিনেমা আনার ক্ষেত্রে।

তথ্যমন্ত্রী ভারতীয় সিনেমা এলে মানুষ হলমুখী হবে উল্লেখ করে বলেছেন, “বছরে ১০টি ভারতীয় সিনেমা এ দেশে আমদানি হলে আমাদের সিনেমার কোনো ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করি না। বরং মানুষ হলমুখী হবে, অনেক হল খুলবে। তখন আমাদের ছবির জন্য আরও বড় জায়গা তৈরি হবে।"

পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "পাকিস্তানে হলের সংখ্যা কমতে কমতে ৩০ থেকে ৩৫টিতে নেমে এসেছিল। তখন তারা ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানি করার অনুমতি দিয়েছিল। এরপর হলের সংখ্যা বেড়ে ১২শ’ হয়েছে এবং সাথে সাথে পাকিস্তানের ছবির মানও অনেক উন্নত হয়েছে। আমাদের দেশেও ইতোমধ্যে অনেক ভালো ভালো ছবি হয়েছে, সামাজিক ছবি হচ্ছে।”

কোভিড মহামারি না হলে প্রধানমন্ত্রীর ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করে দেওয়ার সুবাদে ইতোমধ্যে আরও অনেক সিনেমা হল চালু হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নতুন সিনেপ্লেক্স হচ্ছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, স্টার সিনেপ্লেক্স দেশে ৫০টি সিনেপ্লেক্স করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর কারণে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প আরও উপকার পাবে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, "বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী সাহেব কারাগার থেকে বের হয়েই যে বক্তব্য রেখেছেন, তার মাধ্যমেই এটি আবারও প্রমাণিত হয় যে দেশে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত আছে।

"রিজভী সাহেব যদি মনে করেন উনি ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে এসেছেন এবং উনি যদি আবার ছোট কারাগারে যেতে চান তাহলে সরকার সে ব্যবস্থা নিতে পারেন।"

পুরানো খবর:

দেশের হলে হিন্দি সিনেমা দেখানোর পথ খুললো

পুরানো খবর:

সিনেমা আমদানি: অনুমতি হয়েছে, এখন নীতিমালা চান হল মালিকরা

পুরানো খবর:

ভারতীয় সিনেমা দেখানোর দাবি হল মালিকদের, তথ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

তিনি বলেন, "বাংলাদেশে যেভাবে বিরোধী দল সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা এমন কী মাঝেমধ্যে রাতের বেলাতেও সরকারের প্রতি বিষোদগার করছে এবং যেভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে সেটির নজীর পার্শ্ববর্তী দেশেও আছে কি না তাকিয়ে দেখুন।"

এক্ষেত্রে ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "একটি বক্তব্যের কারণে রাহুল গান্ধীর দুই বছর জেল হয়েছে, সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে যিনি মামলা করেছেন তিনি বিজেপির একজন সদস্য, এমপি ছিলেন। আমাদের দেশে বিরোধী দলের নেতারা যেভাবে বক্তব্য রাখে এবং প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের দলের ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে এমন কি আমার বিরুদ্ধে, আমাদের বিরুদ্ধে যেভাবে বক্তব্য রাখা হয় সে জন্য কি আমরা আদালতে গেছি?

"এখান থেকেই তো বোঝা যায় যে এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং বাকস্বাধীনতা কত বেশি আছে। অর্থাৎ আমাদের এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সেটি অনেক দেশের চেয়ে অনেক ভালো, উন্নত।”

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের নেতাদের সাক্ষাৎকালে পরিষদের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খসরু, শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ বাচ্চু, প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু উপস্থিত ছিলেন।

কাজী হায়াৎ এসময় সমিতির পক্ষে ১০ দফা প্রস্তাব মন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন।