১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদক এমডিএমএ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৫ জনের দুজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া

“যুক্তরাজ্য থেকে আসা একটি পার্সেলে চকলেটের নীচে এমডিএমএ লুকানো ছিল,” বলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Sep 2025, 10:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:18 PM

নতুন মাদক ‘এমডিএমএ’ বেচাকেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী থাকার তথ্যও দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

অধিদপ্তর বলছে, চক্রটি ঢাকায় ডিজে পার্টিসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় মাদক সরবরাহ করে। 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে ডাকযোগে আসা এমডিএমএর (মেথালাইন ডিঅক্সি মেথাএমফিটামিন) একটি চালানসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধরা হয় বাকি চারজনকে।  

এসব বিষয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে বিস্তারিত তুলে ধরেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ শাইয়ান আহমেদ (২৪) কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির এবং আসিফ মাহবুব চৌধুরি (২৪) নর্থ সাউথ বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

বাকি তিনজন হলেন- মো. জুবায়ের (২৮), জিএম প্রথিত সামস (২৫) ও অপূর্ব রায় (২৬)। এদের মধ্যে দুজন ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল থেকে, অন্যজন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন।

তাদের কাছ থেকে ৩১৭টি এমডিএমএ বড়িসহ গাঁজা ও কিটামিন উদ্ধারের কথা জানিয়েছে অধিদপ্তর। 

মহাপরিচালক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার পল্টন থানা এলাকার পুরাতন ডাক ভবনের বৈদেশিক ডাক শাখা থেকে একটি ‘পার্সেল’ জব্দ করা হয়। যুক্তরাজ্য থেকে আসা সেই পার্সেলে বিদেশি চকলেটের নীচে এমডিএমএ বড়িগুলো লুকানো ছিল। 

“পার্সেলের কাগজপত্র পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এর প্রাপক মো. জুবায়েরকে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুবায়ের জানান, পার্সেলটি যুক্তরাজ্য থেকে অরণ্য নামের একজন ডাকযোগে পাঠিয়েছেন। এটি পাঠানো হয় অরণ্যের বন্ধু অপূর্ব রায়ের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্সেলটি গ্রহণ করে অরণ্যের আরেক বন্ধু জিএম প্রথিত সামসের কাছে পৌছে দেওয়ার কথা ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পার্সেল তুলে প্রথিত সামসের কাছে পৌছে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া কথা জানিয়ে জুবায়ের জিজ্ঞাসাবাদে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বলেন, এজন্য অগ্রিম হিসেবে তিন দফায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পেয়েছেন। 

মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, জুবায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথিত সামসকে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে আসিফ মাহবুব চৌধুরী,  অপূর্ব রায় ও সৈয়দ শাইয়ান আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় পল্টন এলাকা থেকে। 

মহাপরিচালক বলেন, “এরা লেখাপড়ার আড়ালে দেশের বাইরের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশে মাদক ব্যবসার বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তারা বিভিন্ন ক্লাব, ডিজে পার্টি ছাড়াও অভিজাত এলাকার বাসাবাড়িতে নিয়মিত মাদক সরবরাহ করে আসছিল।”

এমডিএমএ নামের মাদক ট্যাবলেট এবং ক্যাপসুলে পাওয়া যায়। এটি একটি কৃত্রিম সাইকোঅ্যাকটিভ ড্রাগ বলে উল্লেখ করে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি অধিদপ্তরের ‘খ’ শ্রেণীভুক্ত মাদক।