Published : 23 Jul 2025, 02:52 PM
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের সামনের সড়কটি অনেকটাই ফাঁকা। সিএনজিচালিত অটোরকিশাসহ রিকশার চলাচল আছে, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে খবরের অপেক্ষায় আছেন সাংবাদমাধ্যম কর্মীরা। প্রবেশ গেইটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন পুলিশ ও সেনা সদস্যরা।
রোগীর স্বজন এবং হাসপাতালে দায়িত্বরত ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
হাসপাতালের সামনে স্বেচ্ছাসেবী কয়েক সংগঠন থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যায়েরও অনেকে ভিড় করেছেন দুর্গতের সেবায়। যাদের কেউ রোগীর স্বজনদের সহযোগিতা করছেন রক্তের ডোনারের খোঁজ দিয়ে। প্রয়োজনে যোগাচ্ছেন খাবার পানি ও স্যালাইনও। বুধবার বার্ন ইন্সটিটিউটের সামনের দৃশ্য ছিল এমনই।
ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা দগ্ধ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের চিকিৎসা চলছে বার্ন ইন্সটিটিউটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশ গেইটের পাশেই হেল্প ডেস্ক খুলে তপ্ত রোদের মাঝেই বসে আছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা রোগীর স্বজনদের সহযোগিতা করছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের একটি হেল্প ডেস্ক ব্যানার থাকলেও সেই ব্যানারের সামনে কাউকে দেখা যায়নি। তবে ব্যানারে চারটি মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া যাছে।
ছাত্রদলের হেল্প ডেস্কে বসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আক্তার শুভ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সকাল থেকে ২০ জনের মত রোগীর স্বজন আমাদের কাছে সহযোগিতা নিতে এসেছেন। আমরা পানি, স্যালাইন আর রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করছি। রোগীর স্বজনদের জন্য আমাদের ফ্রি বাইক সার্ভিসও আছে।"
রোগীর স্বজনেরা কী ধরণের সহযোগিতা চাইছেন জানতে চাইলে শুভ বলেন, "বেশিরভাগই রক্তের জন্য আসছেন। বিশেষ করে নেগেটিগ গ্রুপের রক্ত। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ডোনার আছে, তারা রক্ত দিচ্ছেন।"
অন্যদিকে সকাল ৭টা থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে অপেক্ষা করছিলেন হাসান মাহমুদ নামের একজন স্বেচ্ছাসেবী। কেরানিগঞ্জ থেকে তিনি এসেছেন।
হাসান মাহমুদ বলেন, "আমি পেশাদার বাইক রাইডার নই। আমার ব্যক্তিগত মোটর বাইকটি নিয়েই এসেছি যদি রোগীর স্বজনদের কোনো সহযোগিতা করা যায়। সংবাদমাধ্যমে দেখলাম কেউ কেউ ৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা নিচ্ছে, ২ লিটার পানির দাম নিচ্ছে ৬০০ টাকা। এটা আমাকে ব্যথিত করেছে।"
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৯ জন এবং ৬৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পেইজে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।
বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে ৪৪ জন এবং নিহত ১১জন। ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি আছে ২১ জন এবং মারা গেছে ১৫ জন।
এছাড়া ঢাকা মেডিকেলে ১ জন, লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১ এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে ১ জন মারা গেছে।
বর্তমানে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ১ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন আছে।