Published : 10 Jul 2025, 11:51 PM
মাধ্যমিকের ফল হাতে পেয়েই দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী মালিহা আক্তার; চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক নিয়ে মাও জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মালিহা বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ, রেজাল্ট ভালো হয়েছে। ধানমন্ডিতে কেন্দ্র ছিল আমার, জিপিএ-৫ পেয়েছি। কাল (বুধবার) সারারাত ঘুমাতে পারিনি টেনশনে। এই কয়েকদিন খুবই চাপে ছিলাম।
“জানতাম ফল প্রকাশ হবে ১৩ তারিখ। ১০ তারিখ হওয়ার পর তো আরও চাপ বেড়ে গিয়েছিল। এখন খুবই ভালো লাগছে।”
বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর ভিকারুননিসা স্কুলের মিলনায়তনে ড্রাম বাজিয়ে, ছবি তুলে, নেচে-গেয়ে ‘বাঁধভাঙা’ উচ্ছ্বাস-উদযাপন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে শামিল হন অভিভাবকরাও।
বেলা পৌনে ৩টায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তোলেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম। ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান তিনি। সংবাদকর্মীদের আমন্ত্রণ জানালেন মিষ্টি খাওয়ার।
সকাল থেকে বৃষ্টি আর ঘরে বসে ফলাফল দেখার সুযোগে এবার স্কুলটিতে ফলাফলের দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায় কম। যদিও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি ছিল বেশি।
শিক্ষার্থীরা ভালো ফলের আনন্দে নিজের শ্রম আর পরিবারকে কৃতিত্ব দিলেও কোচিং সেন্টারগুলোকেও এর বাইরে রাখছেন না।
এবারের এসএসসি পরীক্ষার আগে ৩৪ দিন বন্ধ ছিল কোচিং সেন্টার। তবে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই বলছেন, একাধিক জায়গায় কোচিং করেছেন তারা।
নাবিস্কো এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি ছিলেন মালিহা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাসার কাছেই কোচিং করেছি। আমি মনে করি ক্লাসের পাশাপাশি কোচিং করাটা খুবই কাজে দিয়েছে।”
আরেক শিক্ষার্থী মুনতাহা চৌধুরী জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব দেন বাবা-মা ও দাদিকে। সেইসঙ্গে কোচিংয়ের ভূমিকার কথাও বলেন তিনি। তার মা ফরিদা ইয়াসমীনও বলছিলেন একই কথা।
মুনতাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভালো ফল করার পেছনে কৃতিত্ব একজনকে তো দিতে পারব না। সবার প্রথমে মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। মা-বাবার মত সমর্থন তো কেউ আসলে দিতে পারে না। ফলাফল প্রকাশের আগের কয়েকটা দিন কেটেছে দোয়া পড়ে। আমি ছিলাম টেনশনে, বাবা বলছিলেন- তুমি শান্ত থাকো।
“আমার স্কুল, কোচিংয়ের শিক্ষিক-শিক্ষিকারা সবক্ষেত্রে, সবভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। দাদির দোয়াও কাজে লেগেছে। ভবিষ্যতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হতে চাই।”
মুনতাহার মা ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, “আমি সত্যিই অনেক খুশি। আমি জানতাম আমার মেয়ে ভালো ফলাফল করবে।”
নিজের মেয়ের ভালো ফলের কথা শুনিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মগবাজারের বাসিন্দা পারভীন ইসলাম।
তিনি বলেন, “এটা আসলে খুশির কান্নাকাটি। এ বছর আমার মেয়ে আদিবা ইসলাম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলের আগে খুবই ভয়ে ছিলাম। তবু জানতাম মেয়ে ভালো করবে।”
মেয়েকে কোচিং করানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সিদ্ধেশ্বরীতে দুটো বিষয়ে কোচিং করিয়েছি মেয়েকে। বিভিন্নভাবে শুনেছিলাম এবার খাতা খুব কড়াকড়ি করে কাটবে। তাই একটু ভয়ে ছিলাম। সবমিলিয়ে এখনকার অনুভূতিটা বলে বোঝানো যাবে না।”
ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার ৯৭ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৬৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৬ জন শিক্ষার্থী।
স্কুলটি থেকে এবার পরীক্ষায় বসার কথা ছিল ২ হাজার ১২০ জনের। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২ হাজার ১১৬ জন। পাস করেছেন ২ হাজার ৬১ জন শিক্ষার্থী, অকৃতকার্য হয়েছেন ৫৫ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পাস করছেন ১ হাজার ৮৩৮ জন, ফেল করেছেন ৩৭ জন। মানবিক বিভাগে পাস করছেন ৪১ জন, ফেল করছেন আটজন। ব্যবসায় শিক্ষায় পাস করেছেন ১৮২ জন, ফেল করছেন ১০ জন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবারের এসএসসি ও সমমানই ছিল প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। তাতে অংশ নিয়েছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশে পাস করেছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
স্কুলের গণ্ডি পেরোনো এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
এই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৪৩ হাজার ৯৭ জন।