১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যক্তিগত সম্পদ কত টাকার? মোরশেদ বললেন, ‘মনে নেই’

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

ব্যক্তিগত সম্পদ কত টাকার? মোরশেদ বললেন, ‘মনে নেই’
আদালতে মোরশেদ আলম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2025, 11:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সাবেক এমপি, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া সোমবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন বলে দুদকের প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন।

শুনানিতে বিচারক মোরশেদ আলমের কাছে জানতে চান কোম্পানির সম্পদ কত টাকার। জবাবে তিনি বলেন, ৮৫ কোটি টাকার।

বিচারক বলেন, ৮৫ কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ।

এরপর বিচারক প্রশ্ন করেন, ব্যক্তিগত সম্পদ কত টাকার? সেসময় মোরশেদ আলম বলেন, ‘এই মুহূর্তে মনে নেই’। তারপর অর্থ আত্মসাতের মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন বিচারক।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে গত ৩০ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

তার বিরুদ্ধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর কাছে ‘তথ্য গোপন করে বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে ভাইয়ের জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় তার ছেলে সাইফুল আলম ও ভাই মো. জসিম উদ্দিনও আসামি। ঘটনার সময় তারা দুজন যথাক্রমে মোরশেদ আলমের বেঙ্গল গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কনসেপ্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক।

দুদকের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার গণিপুর মৌজায় শূন্য দশমিক ৮৯৬ একর জমি ও একটি নির্মাণাধীন ১৫ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় বাণিজ্যিক জায়গা কিনে।

জমিটির মালিক ছিলেন জসিম উদ্দিন। সাইফুল আলম ছিলেন জমি বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত। ন্যাশনাল লাইফের জন্য জমি কেনার ক্ষেত্রে এমন আত্মীয়-সম্পর্ক থাকায় ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ তৈরি হয়, যা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আইডিআরএ’র কাছে জমি কেনার পূর্বানুমোদনের সময় ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক অস্বীকার করে মিথ্যা’ প্রত্যয়ন দেওয়া হয়, যাতে বলা হয়েছিল, কোম্পানিটির সঙ্গে কোনো পরিচালক বা উদ্যোক্তার সম্পৃক্ততা নেই।

জমির প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫৫ টাকা। অথচ, তা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা দেখানো হয়। এই মিথ্যা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ন্যাশনাল লাইফ বেঙ্গল কনসেপ্টের অনুকূলে চেক দিয়ে পুরো অর্থ পরিশোধ করে। এভাবে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬ হাজার ১৪৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ দুদকের।

গত ৮ এপ্রিল রাতে গুলশান-২ থেকে মোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পর দিন তাকে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে ঢাকার ধানমন্ডিতে মো. শামীম নামে কিশোরকে হত্যার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি মোরশেদ আলমের মালিকানাধীন গ্রুপের অন্যতম কোম্পানি বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। গণমাধ্যম, খাদ্য পণ্য, সিমেন্ট, ইস্পাত, আবাসনসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপের।

মোরশেদ আওয়ামী লীগের টিকেটে নোয়াখালী-২ আসন থেকে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

গ্রেপ্তার শিবলী রুবাইয়াত

এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের আরেক মামলায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকেও সোমবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৮৭ কোটি টাকার জমি অতি মূল্যায়ন করে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক গত ১৬ এপ্রিল ওই মামলা করে। সেখানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে শিবলী রুবাইয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।