১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

'কমপ্লিট শাটডাউন' করে চলছে 'মার্চ টু এনবিআর' কর্মসূচি

এনবিআরের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ভেতরে অবস্থান নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jun 2025, 12:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:17 PM

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানকে অপসারণ দাবিতে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি শুরু করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। 

শনিবার সকাল থেকে এনবিআরের ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আন্দোলনকারীরা সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে রাজধানীর এনবিআর ভবনের সামনে সমবেত হয়েছেন।

এছাড়া দেশের ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিও পালন করছে আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম-'এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ'।

সকাল ৯টার মধ্যে যারা এসেছেন তারা এনবিআরের প্রধান কার্যালয় রাজস্ব ভবনে ঢুকতে পেরেছেন; তারপর থেকে মূল ফটকে সবাইকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে এনবিআরের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ভেতরে অবস্থান নিয়েছে। এতে করে প্রধান ফটকের সামনে ফুটপাত ও প্রধান সড়েকের এক অংশ জুড়ে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির ঘোষণা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ আগেই দিয়ে রেখেছিল। সংস্কার ঐক্য পরিষদের আগে শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসে।

সেখানে বলা হয়, “কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে, অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে কিংবা দেরিতে অফিসে হলে সরকারি বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনবিআরের আগে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও, যেখানে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনা ও অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় বলে, “এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে চলমান আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ে আড়াই ঘন্টা ধরে আলোচনা হয়। অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ওই সভায় অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) ও বোর্ডের ১৬ জন সদস্য তাতে অংশগ্রহণ করেন।”

বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে অবশ্য এনবিআরের আন্দোলনরত কর্মীদের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেননি।

সেদিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে ‘সিদ্ধান্ত’ এলে ‘আজকের মধ্যেই’ একটা সমাধান আসতে পারে।

তবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হবে। তখন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থ উপদেষ্টার মুখ থেকে সেদিন ‘আশার’ কথা শোনা গেলেও নিজেদের দাবি ও কর্মসূচির বিষয়ে অটল থাকেন আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, “আজ অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসেছে, যা এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নজরে এসেছে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আমন্ত্রণ না জানানোয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

তারা বলেন, সংকট নিরসনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ যেকোনো সময় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে।

গত মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি হয়। সেটি বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মীরা।

তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার পিছু হটে। বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি দায়িত্বে এসে আন্দোলনে থাকা কয়েক কর্মকর্তাকে 'স্ট্যান্ড রিলিজ', সেমিনার করতে চাইলে সে জন্য কক্ষ বরাদ্দ না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে কর্মকর্তাদের।

'হুমকি' ও 'আহ্বান' প্রত্যাখ্যান, 'মার্চ টু এনবিআর' চালিয়ে যাবে ঐক্য পরিষদ

'মার্চ টু এনবিআর' প্রত্যাহারের আহ্বান মন্ত্রণালয়ের

আন্দোলনকারীরা না এলেও 'অত্যন্ত আশাবাদী' এনবিআর চেয়ারম্যান