১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্দোলনকারীরা না এলেও ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ এনবিআর চেয়ারম্যান

“সমাধান তাড়াতাড়ি হবে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি সভা করব। তখন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে,” বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

আন্দোলনকারীরা না এলেও ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ এনবিআর চেয়ারম্যান
অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার এনবিআরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2025, 11:55 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:16 PM

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আন্দোলনরত কর্মীরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যোগ না দিলেও খুব শিগগিরই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

তিনি বলছেন, আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে ‘সিদ্ধান্ত’ এলে ‘আজকের মধ্যেই’ একটা সমাধান আসতে পারে।

তবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলছেন, আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হবে। তখন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। 

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় আন্দোলনরত বিসিএস (কর) এবং বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের প্রতিনিধিদের অর্থ মন্ত্রণালয়ে এসে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

দিনভর আগারগাঁও এনবিআর কার্যালয়ে আন্দোলনে থাকা কর্মকর্তাদের কেউই সে আলোচনায় যাননি। ফলে সংস্থাটির ১৭ জন সদস্যের ১৬ জনকে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

বৈঠক শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান    সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আড়াই ঘন্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। রেভিনিউজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ১৭ জন সর্বোচ্চ অথরিটি বা সদস্যের মধ্যে ১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। একজন দাপ্তরিক কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় আসতে পারেননি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করেছেন। আপনারা যেভাবে উদ্বিগ্ন, আমরাও একইভাবে উদ্বিগ্ন।” 

আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি হলো চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণ। 

বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন সাংবাদিকরা তুললেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

তবে রাতের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। 

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে আমদানি রপ্তানি সবকিছু জড়িত। সেখানে যে ভুল বোঝাবুঝিগুলো হয়েছে, সেটা কীভাবে হল, সে বিষয়ে একটা ধারণা পাওয়া গেছে। 

“আমরা খুবই আশাবাদী যে একটা সুন্দর সমাধান আসবে। স্যার (অর্থ উপদেষ্টা) সেদিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। আলোচনা চলছে, আরও আলোচনা হবে। আশা করি একটা সুখবর দিতে পারব।”

তিনি বলেন, “এই আলোচনা শেষ হলেও আন্দোলনরত কর্মকর্তারা, ওনাদের মধ্যে আলোচনা করছেন। ওনারা সিদ্ধান্ত দিলে আজকের মধ্যেই একটা সমাধান হবে বলে আশা করি। এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে, টেলিফোনে, মেসেজ বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। 

“যারা রাজস্ব আহরণ করেন, তারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং টেলেন্টেড মানুষ। এত কিছুর পরও সারাদেশের রেভিনিউ কালেকশন বেশ ভালোর পথেই আছে। আন্দোলন করলেও তারা সঙ্গে সঙ্গে কাজটাও করছে। ব্যাপারটা এমন না যে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। তাদের কনসার্নগুলো ভেন্টিলেট করা গেছে। আশা করি এগুলোর একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে। যখন সমাধান হবে সবকিছুরই সমাধান হবে।”

 বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “তারা না এলেও সব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কমিশনাররা আসছেন। এরা সবাই দায়িত্বশীল। যারা আন্দোলন করছে, বেশির ভাগই তাদের অধীনে কাজ করে। তাদের সঙ্গে খোলাখুলি আলাপ করেছি এবং এ সমস্যার সমাধান তাড়াতাড়ি হবে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি সভা করব। তখন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।”

এনবিআর কর্মীদের আন্দোলনের কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সেটার ব্যাপারে তাদেরকে অনুরোধ করেছি। তারা যেন ইমিডিয়েটলি এটা উইথড্রো করে। এখানে আমাদের কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার নেই। দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে তারা এটা শুনবে বলে আশা করছি। কিছুদিনের মধ্যে দেখবেন সমাধান করে দেবে।”

মে মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি হয়। সেটি বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মীরা।

তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার পিছু হটে। বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

শুক্রবারের মধ্যে চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে শনিবার থেকে কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে ‘লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরুর ঘোষণা রয়েছে পরিষদের তরফে। একই সঙ্গে সব দপ্তর থেকে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।