‘ঝটিকা মিছিল’: আদালত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার চার জন ৩ দিনের রিমান্ডে
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সমবেত হয়ে ঝটিকা মিছিল করছে।
সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধের একটি হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিনে পুরান ঢাকার আদালত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার চার জনকে কোতোয়ালি থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মোস্তাকিম হোসেন, মো. নূর আলম, মো. রুহুল আমিন ও মো. আনোয়ার হোসেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাক চালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল রোববার।
ওই মামলায় জুনাইদ আহমেদ পলক সেদিন আদালতে হাজির করা হয়।
ওই সময় মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকা থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ মামলা করে।
সোমবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন কোতোয়ালি থানার এসআই ইবনে খালিদ হোসেন। আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন রাখে মঙ্গলবার।
এদিন আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
এসআই কামাল হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন।”
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন, বলেন তিনি।
মামলা বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২৬ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে মোহাম্মদপুর থানার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। অন্যদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। শুনানিকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের কতিপয় সদস্য ও সমর্থক সমবেত হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় আসামিরা দেশের ‘সার্বভৌমত্বকে বিনষ্ট করার প্রয়াসে’ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সমবেত হয়ে ‘দেশ ও সরকারবিরোধী’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করছে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জন নেতাকর্মী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় মোস্তাকিম হোসেন, নূর আলম, রুহুল আমিন ও আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়।
