Published : 25 Oct 2025, 06:25 PM
জাতীয়করণের দাবিতে কর্মবিরতি ও আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষতি পুষিয়ে দিতে’ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার ক্লাস নেওয়া হচ্ছে বেশকিছু এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
বার্ষিক পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি বিবেচনায় এদিন ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগের কথা বলছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের’ সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আট দিন শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।
“এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে, জাতির ঋণ পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে শনিবার বন্ধের দিনেও জোটের আহ্বানে সারা বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরোদমে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। বার্ষিক পরীক্ষার আগে আগামী ১, ৮ ও ১৫ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস চলবে।”
পাবনার সুজানগরের খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার ক্লাস চলেছে বলে জানিয়েছেন স্কুলটির সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ রাজু। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হলেও আমরা সন্তুষ্টু।”
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার আবদুল মতিন খসরু মহিলা ডিগ্রি কলেজ, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সন্দলপুর ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লার বরুড়া থানার কাজকামতা আশ্রাফিয়া আলিম মাদ্রাসা, পিরোজপুরের নেছারাবাদের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জে কাজিপুরের গোয়াল বাথান উচ্চ বিদ্যালয়, ঝালকাঠির সুগন্ধিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শনিবার ক্লাস চলেছে।
অপরদিকে রাজধানীর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেননি সে প্রতিষ্ঠানগুলো শনিবার বন্ধ থাকছে।

রাজধানীর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বাসাবো শাখার শিক্ষক মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্স বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কর্মবিরতির সময় আমাদের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার স্কুল ও কলেজ শাখা বন্ধ ছিল।”
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। আর ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, যা প্রথম দফায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হলে আন্দোলনের ডাক দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ নির্ধারণ, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা করা এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এরপর দিন ১৩ অক্টোবর থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেন তারা।
১৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শিক্ষকরা তা মেনে না নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন।
গত ২১ অক্টোবর সরকার বাড়ি ভাড়া ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একইসঙ্গে তারা কর্মবিরতির কর্মসূচিও প্রত্যাহার করেন।