Published : 03 Feb 2026, 09:38 PM
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চাকরি হারানো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সোমবার কারাগারে যাওয়ার পরদিন মঙ্গলবার সাফিকুর নিজের পদও খুইয়েছেন।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ১১ বছর বয়সী ওই শিশু গৃহকর্মীকে ‘পৈশাচিক ও বিভৎস’ নির্যাতনের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ জানায় ২৪১টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অসহায় এবং দরিদ্র’ এক পিতা আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তি এবং কন্যার উন্নত জীবন প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন এক বিত্তশালীর বাসায় সহায়তাকারী হিসেবে দিয়েছিলেন। বিপরীতে ওই কন্যাশিশুর ওপর চলেছে ‘পৈশাচিক’ নির্যাতন।
বিমানের এমডির বাসায় শিশুটিকে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ভারী বস্তুর আঘাতে হাত ও পায়ের হাড় ফেঁটে যাওয়া এবং শরীরে ক্ষত নিয়ে ছোট কন্যাশিশুটি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।
“এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত ও প্রভাবশালী পর্যাযের নৈতিক, মানবিক অবক্ষয়ের একটি ভয়াবহ চিত্র।”
প্ল্যাটফর্মটি বলছে, “যেখানে শিশুরাই দেশের ভবিষ্যত, সেখানে এধরণের শারীরিক নির্যাতন, শিশুকে দাসের মতো খাটানো, পঙ্গু করে দেওয়া শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, মানাবাধিকার লঙ্ঘনের চরম নিদর্শন।”
এ অবস্থায় এই মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিস্পত্তিতে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও ক্ষমতার প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে একটি ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ তদন্ত নিশ্চিতে দাবি জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।
এর পাশাপাশি শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার সকল ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা, কন্যাশিশু নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
শিশু নির্যাতনের অভিযোগে রোববার গভীর রাতে উত্তরার বাসা থেকে শাফিকুর ও তার স্ত্রী বীথিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে বাসার আরও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজু আহমেদ শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি আলোচনায় আসার পরদিন মঙ্গলবার সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সরকার। একইসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হুমায়রা সুলতানাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিমানের এমডি ও সিইও করা হয়েছে।