দাবি না মানলে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ হুঁশিয়ারি নার্সদের
মঙ্গলবার সরকারি হাসপাতালগুলোতে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন নার্সরা, বুধবার হবে ৫ ঘণ্টার কর্মবিরতি।
নার্সিং খাতে কর্মরত সব ধরনের ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে সেখানে নার্সদের মধ্য থেকে কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবিতে সারাদেশের হাসপাতালে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন নার্সরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ কর্মবিরতি চলে। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, জরুরি অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস, আইসিইউ, সিসিইউ, পিআইসিইউ এবং এইচডিইউ এই কর্মসূচির বাইরে ছিল।
নার্সিং ও মিডওয়াইফাইরি সংস্কার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাব্বির মাহমুদ বলেছেন, বুধবার তারা ৫ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করবেন। তারপরও দাবি না মানলে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ যাবেন।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল থেকে সব ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নার্সদের মধ্য থেকে পদায়নের এক দফা দাবি জানিয়ে আসছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলেন দাবি পূরণের জন্য সরকারকে তিন দিন সময় দেওয়া হয়। দাবি মানা না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল সংগঠনটি।
সরকারের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে রোববার থেকে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি শুরু করেন নার্সরা। সোমবারও তা চলে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদ জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বুধবারও সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এরপর কমপ্লিট শাটডাউনে যাবেন নার্সরা।
ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান– নিটোরের সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের একটাই দাবি, এই দাবিতে সারাদেশের সর্বস্তরের নার্সরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আমাদের দাবি নার্সিং সেক্টর থেকে আমলা সরাতে হবে, নার্সদের বসাতে হবে।”
নার্সিং ও মিডওয়াইফাইরি সংস্কার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাব্বির মাহমুদ বলেন, “ঘোষণা অনুযায়ী জরুরি সেবাসহ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছি। আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে। দাবি আদায় না হলে এরপর কমপ্লিট শাটডাউনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”
বিভিন্ন হাসপাতালের নার্সরা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে চাকরিতে প্রবেশ করেন তারা। যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পেলে তারা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হতে পারেন।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “নার্সিং সেক্টরের শীর্ষ পদে আমলাদের বসানো হচ্ছে। এই সেক্টরে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ২০১৬ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী নার্সরা পদোন্নতি পেয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যন্ত হতে পারেন।
“নার্সদের মধ্য থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী শীর্ষ পদগুলোতে যেন পদায়ন করা হয় আমাদের আন্দোলন সেই দাবিতে। কাল এবং আজ সারাদেশে কর্মবিরতি পালন হয়েছে। বুধবারও কর্মবিরতির ঘোষণা আছে। আজ আমাদের মিনিস্ট্রিতে ডেকেছে। আমরা যাচ্ছি, যদি দাবি মেনে নেয় তাহলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেব। আর দাবি না মানলে কমপ্লিট শাটডাউনে যাব।”
