Published : 13 Aug 2026, 03:12 PM
সৌদি আরবের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই (এমওইউ) করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
এ চুক্তির আওতায় সাপ্তাহিক অনুমোদিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট, পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও উড়োজাহাজ লিজিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার কুর্মিটোলায় বেবিচকের সদর দপ্তরে এ তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
তিনি বলেন, “নতুন সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলো প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। আগে এ সংখ্যা ছিল ৪৯। অর্থাৎ সপ্তাহে আরও ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশের হজ ও ওমরাহ যাত্রীরা এর প্রধান সুবিধাভোগী হবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশেষ করে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, আসন সংকট এবং ফ্লাইট পরিচালনার বিভিন্ন জটিলতা মোকাবিলায় বাড়তি ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
“এতে এয়ারলাইন্সগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা ও নমনীয়তা বাড়বে এবং হজ ফ্লাইট আরও সুশৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”
সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশিও এর সুফল পাবেন মন্তব্য করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়লে প্রবাসীদের দেশে আসা-যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
“পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীরা আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী বিমানভাড়া পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।”
নতুন সমঝোতায় ঢাকার পাশাপাশি দেশের আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলোর চট্টগ্রাম ও সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিধি বাড়ায় রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলেও ভাষ্য তার।
এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ হবে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান।
মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “দুই দেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
“এর ফলে তৈরি পোশাক, তাজা শাকসবজি, ফলমূলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানিপণ্য দ্রুত সৌদি আরবের বাজারে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়বে।”
একই সঙ্গে পঞ্চম স্বাধীনতা বা ‘ফিফথ ফ্রিডম ট্র্যাফিক রাইটস’র আওতায় বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলোও সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিসহ নির্ধারিত গন্তব্যে কার্গো সেবা পরিচালনা করতে পারবে।
বেবিচক মনে করছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দেশকে আঞ্চলিক কার্গো সংযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি সরকারের রপ্তানীমুখী নীতির জন্য সহায়ক হবে বলে ভাষ্য বেবিচকের।
সমঝোতায় কোড-শেয়ারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলো নিজ দেশের, অপর পক্ষের কিংবা তৃতীয় দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কোড-শেয়ারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সহযোগিতায় যেতে পারবে।
এতে যাত্রীরা আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন গন্তব্যে সহজ সংযোগ সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে বেবিচক।
এ ছাড়া ‘কো-টার্মিনালাইজেশন’ সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে একই ফ্লাইটে একই দেশের একাধিক গন্তব্যে সেবা পরিচালনার সুযোগ থাকবে।
পাশাপাশি লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ, বিশেষ করে ‘ওয়েট লিজ’ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যস্ত মৌসুমে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনায় এয়ারলাইন্সগুলো আরও নমনীয়তা পাবে।