১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হামলার বর্ণনা দিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন মাছুম মোস্তফা

নেত্রকোণা-৫ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে না দিলে হয়ত সংসদে তার জন্য শোক প্রস্তাব আনতে হত।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Apr 2026, 08:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:29 PM

নির্বাচনি এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ সংসদে তুলে ধরে নিজের, পরিবারের ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়েছেন নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা।

রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্বধলার একটি ফিলিং স্টেশনে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং মসজিদে ঢুকে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলার আতকাপাড়া এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে ওই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সেদিন ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেন এই সংসদ সদস্য। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সংসদে মাছুম মোস্তফা বলেন, “আমি নির্বাচনি এলাকায় সাংগঠনিক কাজে, সামাজিক কাজে যাই। কাজ শেষ করে ফেরার সময় আমি একটি ফিলিং স্টেশনে দেখতে পাই প্রচুর গাড়ির ভিড়। তখন আমি স্বাভাবিকভাবে সেখানে দাঁড়ালাম। ফিলিং স্টেশনে আমার গাড়ি রেখে মানুষের খোঁজখবর নিলাম।”

এর মধ্যে মাগরিবের আজান হলে ফিলিং স্টেশনের নামাজের জায়গায় নামাজ পড়তে যান বলে জানান এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বিএনপির কিছু লোক, যারা বিএনপির নাম ধারণ করেছে, তারা সন্ত্রাসী, তারা আমার গাড়ির উপরে হামলা চালায়। আমার লোকজন যারা সাউন্ড শুনে আসে, তাদের উপরে হামলা করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং আমি যে মসজিদে ছিলাম, সেই মসজিদে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।”

মাছুম মোস্তফা বলেন, মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর হামলাকারীরা বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে দরজায় আঘাত করেন। সঙ্গে গালিগালাজ করে ও হত্যার হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, “পরবর্তী সময়ে আমি শুনতে পাই যে সেখানে পেশাদার কিলারকে নেওয়া হয়েছিল, যাতে আমাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারে নাই বলে আজকে মাননীয় স্পিকার আপনার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। না হলে হয়ত আজকে আমার জন্য এখানে শোক প্রস্তাব আনতে হতো এবং আমার জন্য হয়ত আপনারা এক মিনিট নীরবতা পালন করতেন।”

‘আমি আমার নিরাপত্তা চাই’

সংসদে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা দাবি করে মাছুম মোস্তফা বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার কাছে আমার নিরাপত্তা চাই। আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমি আমার এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই।”

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি পত্রিকায় দেখেছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

জবাবে মাছুম মোস্তফা বলেন, “পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে একজন শুধু তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা নিরপরাধ। আজ নয়জনের জামিন চলে আসছে। আর যারা আসামি ছিলেন, তারা সকলেই মিছিল করতেছেন।”

এই সংসদ সদস্য বলেন, তিনি পুলিশ সুপারকে বলেছেন, অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

তদন্তের আশ্বাস মির্জা ফখরুলের

এরপর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সবাই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং এতে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত বোধ করেছি।

“আমাদের সংসদ নেতা পাশেই বসে আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন যে, তিনি নিশ্চিত করবেন যেন এটা সুষ্ঠু একটি তদন্ত হয়। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।”

এরপর স্পিকার বলেন, একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। পুরো সংসদ এ বিষয়ে একমত যে, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্পিকার বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের ধরার ব্যাপারে মন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন। তিনি মাছুম মোস্তফাকে ফল দেখার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।