Published : 14 Aug 2026, 04:20 PM
রাজধানী ঢাকার প্রতি নাগরিকদের ‘ভালোবাসা জাগাতে’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’।
রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ডিএসসিসির উদ্যোগে গত ১ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডিএসসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের ঐতিহাসিক ঢাকা গেট থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে সাইকেল শোভাযাত্রা টিএসসি শাহবাগ, বাটা সিগন্যাল, সাইন্সল্যাব, নীলক্ষেত, আজিমপুর, ঢাকেশ্বরী মন্দির, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বকশীবাজার মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রোড, বঙ্গবাজার মোড় দিয়ে নগর ভবনে এসে টি শেষ হয়।
প্রায় ৩০০ নাগরিক এই সাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সাইক্লিস্টকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া হয় পদক ও সনদ।
ঐতিহাসিকভাবে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকাকে প্রথম বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন। সে হিসেবে ২০২৬ সালে রাজধানী হিসেবে ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন ইতিহাসবিদদের মতে এবং সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এ শহরের পত্তন আরও অনেক আগে।
অন্যদিকে ১৮৬৪ সালের ১ অগাস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আধুনিক নগর প্রশাসনের সূচনা হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ভিত্তির স্মরণে প্রতি বছর ১ অগাস্ট ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম এর সভাপতিত্বে শোভযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, “এমন একটি ঢাকা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে এবং স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশ পাবে। তরুণেরা যাতে সাইকেল নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।”
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “নগরীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিচিতি ও সম্পৃক্ততার অভাবে অনেকের মধ্যেই ঢাকার প্রতি কাঙ্ক্ষিত মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে ওঠেনি। এর প্রভাব পড়ছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ নাগরিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে।”
‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উৎসবের শনিবারের আয়োজন মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বুড়িগঙ্গা মঞ্চ (সোয়ারীঘাট) পর্যন্ত ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’।
এছাড়া ১৬ থেকে ২২ অগাস্ট সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিবেশিত হবে ঢাকার ওপর নির্মিত মঞ্চ নাটক। ২১ অগাস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাটে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ এবং সদরঘাটে শত বছরের পুরোনো বিশেষ হেরিটেজ ক্রুজযোগে পর্যটকদের ভ্রমণ।
২১ থেকে ৩০ অগাস্ট ঢাকার বিপণীবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং নাগরিকদের আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি নিয়ে ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচি। ২২ অগাস্ট মধুমিতা সিনেমা হলে হবে ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন।
২৩ থেকে ২৯ অগাস্ট বিটিভিতে ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার। ২৪ অগাস্ট উত্তর ধানমন্ডিতে জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হ্যালিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ‘পাখির চোখে হৃদয়ে ঢাকা উৎসব’ প্রদর্শন। ২৮ অগাস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’।
২৯ অগাস্ট বিকাল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে।
৩০ অগাস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প।
৫ সেপ্টেম্বর আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।