১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রেপ্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী সাময়িক বরখাস্ত

২০১৯ সালে ধানমন্ডিতে অপহরণের অভিযোগে সরকার পতনের পর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী সাময়িক বরখাস্ত
গ্রেপ্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2024, 02:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:26 AM

পাঁচ বছর আগে ঢাকার হাজারীবাগে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ এনে সরকার পতনের পর করা মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্ত করা হয়, তবে ছয় দিন পর সোমবার তা জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।

২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাফীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। 

গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের দিন আশুলিয়া থানায় আক্রমণে যাওয়া জনতার ওপর গুলিতে প্রাণহানির পর মরদেহ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর) রবিউল হোসেন ভুঁইয়া।

তবে পরে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আর কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে জানতে গোয়েন্দা কর্মকর্তা রবিউল হোসেন ভুঁইয়াকে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “ঢাকা জেলার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হাজারীবাগ খানায় দায়েরকৃত মামলায় ৫নং এজহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাই কাফীকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।”

সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

কাফীকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই মামলাটি করেছেন আরিফ মাইনুদ্দিন নামে একজন প্রকৌশলী। গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর করা এই মামলার ৫ নম্বরে কাফীর নাম আছে।

মামলায় আরিফ লেখেন, ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকে ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফসহ তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়। তাদেরকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরে মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আব্দুল্লাহিল কাফী সে সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছিলেন।

বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা তাকে একটি ‘মিথ্যা মামলার’ বাদী হতে বাধ্য করেছেন, ‘মিথ্যা হলফনামা ও দলিল’ তৈরি করিয়ে তাতে স্বাক্ষর নিয়েছেন। তাকে সামাজিকভাবে ‘হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য’ এসব মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করেছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এই মামলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আছেন আব্দুল্লাহিল কাফী।