Published : 25 Aug 2026, 07:38 PM
দেশে সারের মজুদ নিয়ে ‘সমস্যা নেই’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সরকার সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন নিয়ে আসছে বলেও তথ্য দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “আমি সার এবং বিদ্যুৎ নিয়ে কয়েকটা কথা একটু বলতে চাই। সেটা হলো, সারের সংকট নেই। কোনো কোনো জায়গায় সার বিতরণে কিছু অনিয়ম হয়ত এসেছে, পত্রিকায় এসেছে। আমরা খেয়াল করেছি এবং সেটা নিজ গুণে সরকার খুব দ্রুত ব্যবস্থাও নিচ্ছে।
“সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত যিনি আছেন, সেটা কৃষি বিভাগের হোক, সেটা প্রশাসনের হোক, তাকে বদলি করা হয়েছে এবং নতুন মানুষ ওখানে দেওয়া হয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, অতিরিক্ত সার সংরক্ষিত আছে।”
পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “কিছুটা সমস্যা বিতরণে আছে এবং আপনারা এটুকু সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা জানেন, সরকার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে; যেটা কৃষক এবং জনগণের স্বার্থে। সেটা নিয়েই কিছুটা অস্থিরতা, কিছ নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা— এগুলো হচ্ছে।”
রোববার সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গোডাউনের দরজা ভেঙ্গে ১০ হাজার বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকরা। পরে পুলিশ কিছু সার উদ্ধার করলেও বাকি সার অধরা রয়ে গেছে। এ ঘটনায় তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “কোনো কোনো ডিলার তার নামে বরাদ্দ হওয়া সার উত্তোলন করছেন না। এ ধরনের কিছু ঘটনার কারণে কোনো কোনো জায়গায় কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তবে আমরা আশা করি এটা বন্ধ হয়ে যাবে।”
সার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোনো ঘাটতি যেন না হয়, ২৪ অগাস্ট সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
“এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।”
পরিবেশকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “ডিলারদেরকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সার উত্তোলন করেন এবং যে পরিমাণ সার তাদের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে, সেটা যেন তারা বিতরণ করেন।”
২৪ অগাস্ট পর্যন্ত দেশে ৪ দশমিক ৮২ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৩ দশমিক ৬৯ টন টিএসপি, ৩ দশমিক ৬৮ টন ডিএপি, ১ দশমিক ৪৬ টন এমওপি মিলিয়ে মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
এছাড়া আমদানি পর্যায়ে টিএসপি ২ লাখ ১০ হাজার, ডিএপি ২ লাখ ৮০ হাজার, এমওপি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর বাইরে টিএসপি ৬০ হাজার, ডিএপি ১ লাখ ২০ হাজার, এমওপি ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
দেশে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা বলেছেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “এখনো আপনারা খেয়াল করেছেন যে গ্যাসের সরবরাহ পূর্ণমাত্রায় প্রতিস্থাপিত হয়নি। আমাদের এফএসআরইউ যেটা নষ্ট হয়েছিল, আগুন ধরেছিল, সেটা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে গ্যাসের যে কার্গো আছে, সেই কার্গো সাপ্লাই আসতে একটু সমস্যা হচ্ছে। সেটা হলে এর মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।”
সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, “শিল্পোদ্যোক্তাদের কারখানা টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের শঙ্কা ও উদ্বেগ দূর করতে নিয়মিত অফিসিয়াল ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে।”
বর্তমান সংকটকে বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “দুই বছরের মতো সময় ইন্টেরিম সরকার ছিল, তারাও কি স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার জন্য খুব চেষ্টা করেছেন? উত্তর হচ্ছে না।
“দিনের শেষে আমরা অনেক বেশি গ্যাস এনে মারাত্মক রকম সাবসিডি দেব, নাকি আমরা কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেব? শর্ট টার্মের কথা বলছি, আমি বলছি না এটা আমাদের চিরকাল করতে হবে। সো ক্রাইসিস আছে, আমরা জনগণকে আমাদের প্রতি অন্তত খানিকটা সহানুভূতিশীল থাকার অনুরোধ করব, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
আরও পড়ুন
কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেল কৃষকরা