এডিসি হারুনের পর সানজিদাকে রংপুরে বদলির খবর গুজব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

“আমার জানা মতে যিনি ভিক্টিম, তিনি এখনো মামলা করেননি,“ বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Jan 2024, 11:08 AM
Updated : 28 Jan 2024, 11:08 AM

শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতাকে নির্যাতনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন-অর-রশীদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করার পর আরেক এডিসি সানজিদা আফরিনকে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলির খবরটি গুজব বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। 

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক সভা শেষে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এডিসি হারুনের পর সানজিদাকেও রংপুরে বদলি করা হয়েছে কিনা, এ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “না, না, এটা গুজব।” 

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাবির ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈম এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিমকে শাহবাগ থানায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এডিসি হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। 

পরদিন ডিএমপি সদর দপ্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) আবু ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে সোমবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এডিসি হারুনকে। আরেক আদেশে মঙ্গলবার তাকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে যুক্ত করা হয়। 

এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বারডেম হাসপাতালে। সেখানে এডিসি হারুনের সঙ্গে ছিলেন এডিসি সানজিদা। সেখানে সানজিদার স্বামী, রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আজিজুল হক মামুন প্রথমে এডিসি হারুনকে মারধর করেন। তার জের ধরে ছাত্রলীগ নেতাদের ধরে থানায় নেওয়া হয়েছিল।

এডিসি সানজিদাও একটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার সহকর্মী এডিসি হারুন নির্দোষ। বারডেম হাসপাতালে তিনি চিকিৎসক দেখাতে গিয়েছিলেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী এডিসি হারুন। ওই সময় তার স্বামী মামুন ‘গুণ্ডাপাণ্ডা এনে’ হারুনকে মারধর করেন। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হারুন সম্পর্কে আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে যেটা করার আমরা সেটা করেছি।  এখন তার বিরুদ্ধে মামলা হবে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। সবগুলোইতো একটা প্রক্রিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে যেটার দরকার ছিল, আমরা তাকে সাসপেন্ড করেছি। এখন তদন্ত শুরু হয়ে তার নামে যদি মামলা হয়ে থাকে, সে মামলাগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।” 

আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার জানা মতে যিনি ভিক্টিম, তিনি এখনো মামলা করেননি। মামলা করলে মামলার তদন্ত শুরু হবে। আর যেহেতু ঘটনা একটা ঘটেছে এটার বিভাগীয় মামলাতো হবেই। …মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। যে ভুল করে তার শাস্তি হয়, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সরকার, সে যেই হোক, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। সে যদি অপরাধ করে, তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে, এটা হল মূলকথা। 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)