Published : 08 Sep 2026, 05:00 PM
ঢাকার শ্যামপুরে এক নববধূর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামীকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর এ তথ্য দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া এ আসামি হলেন ২২ বছর বয়সি রাহাত হোসেন।
এদিকে নববধূর স্বজনরা আদালতে অবস্থান নিয়ে আসামির শাস্তির দাবি জানান।
গেল ২০ অগাস্ট শ্যামপুর থানায় রাহাতসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নববধূর মা।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন-রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন।
২১ অগাস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লটের নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর রাহাতের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার এসআই ইমাম হোসেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন মঙ্গলবার।
এদিন শুনানিকালে রাহাতকে আদালতে হাজির করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আকতার হোসেন সোহেল আসামির রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “মেয়েটির বয়স ১৮ বছর না হলেও তাকে ফুসলিয়ে এবং পরিবারকে ভয় দেখি বিয়ে করেন আসামি। তারপর তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
“এটা কোনো আত্মহত্যা নয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে আর কে জড়িত সে তথ্য উদঘাটনে জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।”
আসামির পক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, “পারিবারিকভাবে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মেয়েটিকে যে হত্যা করা হয় নাই, তা এজাহারেই বোঝা যায় এবং হত্যা করা হয়েছে কিনা, সেটা তারাই নিশ্চিত নয়। আমরাও বিচার চাই। আসামির রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
এ পর্যায়ে নববধূর মা আদালতকে বলেন, “আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয় নাই। আমার মেয়ের সাথে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা বিয়ে দিতে রাজি ছিলাম না। ও ওর মাকে নিয়ে অন্তত ১০ বার আমার বাসায় গেছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। এক প্রকার বাধ্য হয়ে বিয়ে দিয়েছি।”
উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, গেল ৮ মে পারিবারিকভাবে রাহাতের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশ্লীল ভাষায় মেয়েটিকে গালিগালাজ করতেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা তাকে মারধর করতেন। আসামিরা তাকে ভয়ভীতি, হুমকি, মানসিক নির্যাতন, হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতেন।
গেল ২০ অগাস্ট রাহাতের মা পুত্রবধূর মাকে ফোন করে তার অজ্ঞান হয়ে পড়ার খবর দেন। পরে তাকে সূত্রাপুর একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান রাহাতের বাবা লিটন ব্যাপারী ও ভাই সাইফ। ভুক্তভোগীর মাও হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।
পরে মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা তার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন।
এ মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।