Published : 27 Oct 2025, 08:21 PM
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫জন প্রধান শিক্ষককে গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা দিয়ে তাদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ওই ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন একাদশ গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেবিকা সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৮ সালে জারি করা একটি রিট পিটিশন মামলার ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট বিভাগের রায়, সিভিল রিভিউ পিটিশন মামলার ২০২৫ সালের ১৩ মার্চের রায় এবং অর্থ বিভাগের ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের মতামতের আলোকে ওই ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বিদ্যমান বেতন স্কেল গেজেটেড পদমর্যাদাসহ উন্নীত করা হল।
রায়ের তারিখ ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা দশম গ্রেডের সুবিধা প্রাপ্য হবেন বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়।
ওই দিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলেও পরে মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকদের জন্য একাদশ ও অপ্রশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকদের জন্য দ্বাদশ গ্রেডে বেতন ঠিক করে দেয়।
এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতিসহ প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনে নামে।
পরে একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেড নির্ধারণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৪ মার্চ হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ সংক্ষুব্ধ ৪৫ শিক্ষক।
২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দিতে নির্দেশ দেয় বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ।
ওই রায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডের পদমর্যাদায় ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে বলা হয়।
এ বিষয়ে সরকারের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল খারিজ করে দিয়ে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি রায় দেয় তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
হাই কোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় দীর্ঘ তিন মাসেও কার্যকর না করায় প্রধান শিক্ষকেরা আদালত অবমাননার মামলা করেন। ওই রায় কার্যকর না করায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে একই বছরের ২৭ জুন হাই কোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিবাদীদের এক মাসের সময় দেয়।
পরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছর ১৩ মার্চ রায় দেয় আপিল বিভাগ। সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়ন করল।
এদিকে গত ২৮ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সরকার দেশের ৬৫ হাজার ৫০২ প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল বিদ্যমান একাদশ গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং দ্বাদশ গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করতে সম্মতি দিয়েছে।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এ দাবি পূরণ হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকারের তরফে আশা প্রকাশ করা হয় সে সময়।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে প্রধান শিক্ষকদের প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন করায় সরকারের সবগুলো পক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে হাই কোর্ট বিভগের রায় ঘোষণার দিন থেকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু হাই কোর্টের রায়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে তা কার্যকর করতে বলা হয়েছিল।
“আর বাকি সাড়ে ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের বেতন দ্রুত গ্রেজেটেড পদমর্যাদাসহ দশম গ্রেডে উন্নীত করার যে ঘোষণা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”