০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কানাডায় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরকুলের কী পেলেন গোয়েন্দারা?

“দেখেন, নুর ইসলামের তো নানান ব্যবসা। মদের ব্যবসা। তার বন্ডেড ওয়্যারহাউজ আছে। তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ছিলই।”

কানাডায় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরকুলের কী পেলেন গোয়েন্দারা?

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।

হামিমুর রহমান ওয়ালিউল্লাহ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Oct 2026, 01:13 AM

Updated : 02 Oct 2026, 01:32 AM

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম, পরিবারের সদস্য ও তাদের কোম্পানিকে ঘিরে এক দশকের কানাডায় অর্থ লেনদেনের খোঁজ পেয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট।

কানাডায় তাদের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য এবং সেখানে অন্তত চারটি কোম্পানির অস্তিত্ব, সম্পত্তি ও লেনদেনের তথ্য তাদের কর নথিতে গোপন করার অভিযোগের সূত্র ধরে আগে থেকেই তদন্ত করে আসছিল কর আদায়ের সংস্থাগুলো।

সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজনকে দায়ী করার পর বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

কানাডা থেকে যেসব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে সিআইসি এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট তাতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নুরুল ইসলামের পরিবারের লেনদেনের যে হিসাব রয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়ছে। খতিয়ে দেখা হয়েছে এ সময়ের মোট ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন।

সেখানে ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের ১৭টি, ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের চেষ্টার দুটি, ‘বড় অঙ্কের’ নগদ লেনদেনের ১১৮টি, ‘ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক-ইএফটিএন’ মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রতিবেদন ২৬টি এবং আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেনের দুটি নথির খোঁজ মিলেছে।

মিলেছে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিটেন্স আনার তথ্যও।

সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআরের একাধিক জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্যের সত্যতা মিলেছে।

সেসব নথির সারাংশের একটি কপিও সংগ্রহ করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ওই কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ‘ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়’।

সিআইসির একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সালমান মুক্তাদির এখানে ইস্যু নয়। সব গোয়েন্দা সংস্থাই আগে থেকে কাজ করছিল। তা থেকে কিছু প্রমাণও মিলেছে। সামনে হয়তো অভিযানও দেখবেন।”

আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, “দেখেন, নুর ইসলামের তো নানান ব্যবসা। মদের ব্যবসা। তার বন্ডেড ওয়্যারহাউজ আছে। তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ছিলই। আমরা এরমধ্যে জানতে পেলাম যে তার ও তার পরিবারের কারো কারো বিদেশি নাগরিকত্ব আছে।

“এসব কিছুই কর নথিতে নেই। তখন আমরা কাজ শুরু করি। কিন্তু যেহেতু কেবল এখানে আয়কর নয়, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট), আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কের ব্যাপার আছে। সবাই মিলেই কাজ করছি।”

তার বক্তব্য থেকে এক্ষেত্রে শুল্ক গোয়েন্দা ও ভ্যাট গোয়েন্দা মিলে কাজ করার ইঙ্গিত মেলে।

কবে থেকে তদন্ত চলছে, এমন প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, “এপ্রিলের দিক থেকেই চলছে। সরকার তখন থেকেই চায় এটি যেন সমন্বিত কাজ হয়। কোনো ফাঁকফোকর যেন না থাকে। আপনারা তো জানেনই, আগে সবাই নিজেদের মতো করে কাজ করত। কোনো সমন্বয় ছিল না।”

তাদের প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা—বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) দেওয়া হয়েছে, বলেন এ কর্মকর্তা।

একইরকম তথ্য দিয়েছেন এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা।

ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও।

ঘটনার পর ফেইসবুকে লাইভে এসে এর জন্য বিএনপির লোকজনকে দায়ী করেন সালমান মুক্তাদির; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করেও নানা মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ঘটনার পর নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া যে মামলা করেছেন, তাতে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা চালানোর কথা বলা হয়।

মামলায় আসামি করা হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০।

মামলায় এখন পর্যন্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পুলিশ।

এর মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ। বুধবারের মধ্যে তার ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিএফআইউতে জমা দিতে বলা হয়।

সংস্থার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যের প্রয়োজন পড়লে ব্যাংকের কাছ থেকে চাওয়া হয়।

“সালমান মুক্তাদিরের বিষয়টি এখন আলোচিত হওয়ায় আগেভাগেই তথ্য নিয়ে রাখা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে সালমান মুক্তাদিরের আর্থিক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হতে পারে। বিএফআইইউ যেন চাওয়া মাত্র সেগুলো সরবরাহ করতে পারে, সেজন্য তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়।

তার মধ্যে একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যাংক খোলার ঘণ্টা খানেক পড়ে চিঠি আসে সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদির নামের একজনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে। ব্যাংক হিসাব খোলার ফরম ও লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমাদের ব্যাংকের হিসাব থাকলে দেওয়া হবে। না থাকলে তাও জানানো হবে।”

গোয়েন্দা তথ্য কী বলছে?

রাজধানীর গুলশানে ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউজ ‘টস বন্ড’ সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু টস বন্ডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ বেশ পুরনো।

সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছে তাতে ঢাকার এই কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজের পরিচালক হিসেবে নাম আছে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের।

এছাড়াও নানা অনিয়মের কারণে বেশ আলোচিত তেজগাঁও লিংক রোডের দুই প্রতিষ্ঠান কয়লা রেস্টুরেন্ট ও ফুওয়াং ক্লাব। বিভিন্ন সময় সেখানে মাদকবিরোধী অভিযানও হয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানেরও মালিক শেখ নূর ইসলাম।

আয়কর নথিতে দেখা যায়, ‘কয়লা পাব লিমিটেড’ ও ‘ফুওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ মোট ১৪টি লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক হিসেবে রয়েছে তার নাম। এগুলোর মধ্যে ডমিনোজ পিৎজা, স্টারবাকস ক্যাফে ও টিম হর্টনসের মতো ব্র্যান্ডও রয়েছে।

কানাডার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মূল ব্যক্তি হিসেবে চারজনের নাম আছে। তারা শেখ নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং তাদের দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলাম। নথিতে তাদের সবাইকে ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে দিশা ইসলাম সালমানের স্ত্রী।

তাদের সহযোগী হিসেবে আরও দুজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন-গাজী হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী।

নথিতে বলা হয় নুর ইসলাম কানাডার নাগরিক। তাকে ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট এবং ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট’-এর পরিচালক দেখানো হয়েছে। পেশা হিসেবে এসেছে রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ও ‘জুম জুম পিৎজা’র ব্যবসার মালিকানা।

শীলা ইসলামের পেশা হিসেবে লেখা আছে ‘ডমিনোজ পিৎজা’র মালিক ও ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক। দিশা ইসলামের নথিতে তিনি ‘সান লাইফ’-এ বিনিয়োগ পরামর্শক ও সেগ্রিগেটেড ফান্ড বিশ্লেষক। একই সঙ্গে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

আর নুর ইসলামের অপর মেয়ে তাসনিম ইসলাম কানাডার নাগরিক ও ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তাদের সম্মিলিত লেনদেনের অঙ্ক হচ্ছে- ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৮ কানাডিয়ান ডলার। এর সঙ্গে আছে ১ হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৯ হাজার ২৪৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯০০ থাই বাথ ও ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সব মুদ্রা কানাডিয়ান ডলারে রূপান্তর করলে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৯ ডলার।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও দুজনকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রথমজন গাজী হোসেন। আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পক্ষে লেনদেন চালিয়েছেন। কোম্পানির নিবন্ধন তথ্যে তিনি ‘জি. বি. হোসেন–ডিরেক্টর’ নামে অনুমোদনকারী ব্যক্তি হিসেবে আছেন।

এ ছাড়া ‘১১২৮২৭৫১ কানাডা ইনক’ ও ‘১০৫৩০৪৮৪ কানাডা ইনক’-এর পরিচালক হিসেবেও তার নাম আছে।

দ্বিতীয়জন আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী। কোম্পানির নিবন্ধন তথ্যে তিনি ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর সেক্রেটারি, ট্রেজারার ও পরিচালক। নথিতে তার একাধিক পেশা লেখা আছে- হিসাবরক্ষক, প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ট্যাক্সিচালক।

কানাডার ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে এই পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত, যৌথ ও কোম্পানির নামে একাধিক হিসাবের তথ্য আছে। শীলা ইসলামের নামে একটি বন্ধকী (মর্টগেজ) হিসাবও দেখা যায়।

কর নথি কী বলছে?

নুর ইসলামের আয়কর নথি বলছে, ২০২৩-২৪ করবর্ষে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল সোয়া ১৪ কোটি টাকা, যা একবছরের মাথায় বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ কোটি টাকায়। এরমধ্যে প্রায় ৯৫ কোটিই দেখানো হয়েছে রেমিটেন্স হিসেবে।

কর নথিতে নুর ইসলামের ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে ‘বর্ষা মানি চেঞ্জিং সেন্টার’, ‘বর্ষা ডেইরি ফার্ম’ ও ‘বর্ষা ফিশারিজ’-এর নাম আছে।

এছাড়াও ‘লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক’ শিরোনামে ডমিনোজ পিৎজা, ফুওয়াং বোলিং, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, রেডিও মাসালা, স্পাইস টেলিভিশন, স্টারবাকস ক্যাফে, টিম হর্টনসসহ ১৩টির মতো প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে।

তবে কর নথিতে কানাডার ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট’, ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও’ কিংবা ঢাকার ‘টস বন্ড’ এর নাম নেই। কানাডার নাগরিকত্বেরও তথ্য নেই নথিতে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নুর ইসলামের কর নথিতে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে অন্য একজন ফোন ধরে।

তার ফোন নম্বরটি নুর ইসলামের কর নথিতে কী করে যুক্ত হল, তা জানেন না বলে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি অন্য লোক। এই নম্বর আমার নামে। আমার নম্বর থাকবে কির লিগ্যা?” তিনি নুরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কেউ কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়। তিনি কী করেন, কর আইনজীবি, পরামর্শক এমনকিছু কিনা তাও জিজ্ঞেস করা হয়।

ওই ব্যক্তি বলেন, “না না, আমার...আমার পরিচয় জানিয়ে আমার কোনো লাভ নাই।” তিনি কী করেন ফের প্রশ্ন করলে বলেন, “আমি ড্রাইভার। আমি এমনে কিছুই করি না, আমি এমনি কিছু করি না।”

নুরুল ইসলামের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই দাবি করেন; কিন্তু তার নম্বর তাহলে কীভাবে এল নুর ইসলামের কর নথিতে এল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি তো জানি না এটা। কেমনে গেল...।” তিনি আবারও ‘ড্রাইভার’ হিসেবে নিজের পরিচয় দেন এবং বারবার প্রতিবেদকের বিস্তারিত পরিচয় জিজ্ঞেস করেন।

পরে ফোন নম্বরটি আসলেও কর নথিতে ঠিক রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে যাচাই করা হয়। সেখানেও একই নম্বর মেলে।

নুর ইসলামের নম্বর পেতে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বর মেলেনি।

নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ ও তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।