Published : 17 Mar 2026, 04:31 PM
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এক মাস পূর্তিতে তার এসময়ের কর্মযজ্ঞ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি মঙ্গলবার সকালে এক ফেইসবুক পোস্টে তারেক রহমানের বিগত ২৮ দিনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বর্ণনা করেছেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ।
‘প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ: এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ শীর্ষক পোস্টে উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন লিখেছেন, “আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।”
মাহ্দী আমিন বলেন, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার উদ্যোগ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী, ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা উদ্যোগের কথা বলেছেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী: ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ: নির্বাচনি এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নগর সংস্থাগুলোর সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে দেওয়া হয়েছে ঈদ উপহার।
প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা: দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম-মাশায়েখদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনেছেন।
কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ: প্রায় ২৭ হাজার কৃষককে শিগগিরই কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি: পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর ফলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের কথা তুলে ধরতে গিয়ে চারটি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনেছেন উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তার বর্ণনা অনুযায়ী—
সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময়: প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন; কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন।
ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস: প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় ‘নজিরবিহীন’ পরিবর্তন এসেছে।
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত: উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল: শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।
সরকারপ্রধান অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা তুলে ধরতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় আলোকপাত করেছেন উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা: রোজা ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি কেনার উদ্যোগ।
বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ: ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।
শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ: সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু: পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে মাহ্দী আমিন লিখেছেন-
পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল: প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল; লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা: রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার।
ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিষয়ক উদ্বেগ তুলে ধরত গিয়ে উপদেষ্টা মাহদী আমিন লিখেছেন-
ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসা কেন্দ্র: স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু করেছেন; ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু, যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান: সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে লিখেছেন-
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস: সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ; সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কা বাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের বিষয়ে তার নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে আছে-
রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি; অপচয় রোধে ইফতার সীমিত।
অবৈধ দোকান উচ্ছেদ: কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।
শহীদ সেনা দিবস: ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট: ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর, চট্টগ্রাসের শাহ আমানত এবং সিলেটের ম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ দিছেন ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তা চালু করা হয়েছে।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন লিখেছেন, “সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার নেতৃত্ব এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করছে।
“অভূতপূর্ব এ পথযাত্রায় নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, ইনশাআল্লাহ। তাই তো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, ‘সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”