Published : 05 May 2026, 04:27 PM
জুলাই আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরকে এবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তিন দিনের রিমান্ডও দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট থেকে এ আদেশ আসে।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই অনুপ কুমার দাস এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন আফজাল নাছের। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ২৯ মার্চ গভীর রাতে সেনাবাহিনীর এই সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ওইদিন তাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এরপর বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আরো চার দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় তার তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপর মাহমুদুল হত্যা মামলায় ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন এবং ২৯ এপ্রিল তিন দিনের এবং ২ মে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
চার দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
এরপর আফজাল নাছেরকে অনিক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই কেএম আবদুল হক।
প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয় শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তারের দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শওকত হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত গুলি চালায়। এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর গত ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ছাড়েন অনিক।”
ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন অনিক।