Published : 08 Jan 2024, 04:22 PM
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে কানাডার আইনপ্রণেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকায় দেশটির হাই কমিশন।
সোমবার হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে বলেছে, “বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কানাডা সরকার কোনো নির্বাচণ পর্যবেক্ষক প্রেরণ করেনি।
“পর্যবেক্ষক হিসেবে চিহ্নিত কানাডিয়ান নাগরিকদ্বয় স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচন বিষয়ে তাদের প্রদত্ত মতামতের সঙ্গে কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই।”
রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়; ওই নির্বাচনে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি দেড় শতাধিক বিদেশিকে অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন।
তাদের মধ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে পর্যবেক্ষণ করতে আসাদের মধ্যে ছিলেন কানাডার দুই সংসদ সদস্য চন্দ্রকান্ত আরিয়া এবং ভিক্টর ওহ।
ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই দুজন। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তাদের প্রশংসা আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কানাডা সরকার কোনো নির্বাচণ পর্যবেক্ষক প্রেরণ করেনি। পর্যবেক্ষক হিসেবে চিহ্নিত কানাডিয়ান নাগরিকদ্বয় স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচন বিষয়ে তাঁদের প্রদত্ত মতামতের সাথে কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই।
— Canada in Bangladesh (@CanHCBangladesh) January 8, 2024
ভোটের দিনের আগে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরে চন্দ্রকান্ত আরিয়া বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অবাধ ও সম্পূর্ণ সুযোগ থাকার বিষয় আমরা খতিয়ে দেখেছি ও নিশ্চিত হয়েছি।
“আমরাও এও জেনেছি, অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে প্রচারণার সুযোগ ছিল কিনা, আমরা সেটাও দেখেছি।”
কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ভোটার ও নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। সফলভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানান তিনি।
বিরোধীদের নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে এক প্রশ্নে চন্দ্রকান্ত আরিয়া বলেন, “ভোট বর্জন করা কোনো রাজনৈতিক দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সেটা তারা নিজেদের স্বার্থে করে থাকে। তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করা আমাদের কাজ নয়।”
নিজ দেশের তুলনায় ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি কম নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দুই বছর আগে কানাডার সবচেয়ে বড় প্রাদেশিক নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। মানুষ বলেছে উপস্থিতি কম, কিন্তু কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। এক বছর আগে ফেডারেল নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
“ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে, কিন্তু দিনশেষে আমাদেরকে দেখতে হবে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে কিনা। সেটা দেখা যায়নি। মানুষ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন ছিল। রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত তারা ভোটে আসল কি, আসল না। ভোটের প্রক্রিয়াটা অবাধ ছিল, আমরা সেটাকে গ্রহণ করছি।”
তাদের এসব বক্তব্যই কানাডা সরকারের বক্তব্য নয় বলে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করল ঢাকায় কানাডার হাই কমিশন।
পুরোনো খবর: