Published : 06 Mar 2026, 10:03 PM
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ঘিরে যে শত শত বই লেখা হয়েছিল, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা যেন 'হাওয়া'।
অমর একুশে বইমেলায় বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই খুঁজে পেতে রীতিমত অনুসন্ধান চালাতে হল।
গবেষণাধর্মী গুরুত্বপূর্ণ অনেক বইও নেই মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলে। কোনো কোনো স্টলে গিয়ে বইয়ের নাম বলা হলে স্তূপের ভেতর থেকে তা বের করে দিচ্ছেন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থা বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করছে না।
মেলা পরিচালনা কমিটি বলছে, কোনো নির্দিষ্ট বই প্রদর্শন বা বিক্রি না করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তবে মেলার মাঠে ঘুরে এবং প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বেশিরভাগ বই মেলায় প্রদর্শন বা বিক্রি করা হচ্ছে না। হাতেগোনা কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার স্টলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই বিক্রি হচ্ছে।
মেলার মাঠেই কথা হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বললেন, "অতিরঞ্জিত কিছুই টিকে না। আওয়ামী লীগ আমলে বঙ্গবন্ধু নিয়ে অনেক অতিরঞ্জন করা হয়েছে।
“অভ্যুত্থানের পর দেখেন জুলাই নিয়ে প্রকাশের হিড়িক ছিল। এবার কিন্তু সেটাও কমে গেছে। এবার দেখি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান নিয়ে কিছু বই বের হচ্ছে। অতিরঞ্জিত কিছুই ভালো না।"
'মুজিব জন্মশতবর্ষে' বাংলা একাডেমি থেকেই শতাধিক বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রকাশ হয়েছিল। যার মধ্যে 'আমার দেখা নয়াচীন', 'কারাগারের রোচনামচা'সহ কিছু বই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে গবেষকদের অনেকে মনে করেন।

মেলায় বাংলা একাডেমির স্টলে গিয়ে পাওয়া যায়নি বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কোনো বই। স্টলের বিক্রয়কর্মীরা নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক অনেক বই প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় মেলাগুলোতে প্রায় সব প্রকাশনা সংস্থার স্টলে ছিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই প্রকাশের প্রতিযোগিতা।
মেলা পরিচালনা কমিটির নতুন বইয়ের তালিকায় বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরিই রাখা হত তখন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।
তবে ব্যতিক্রম দেখা গেল হাতেগোনা কয়েকটি স্টলে। দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে প্রকাশ হয়েছিল 'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটি। ইউপিএল এর স্টলে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ কয়েকটি বই বিক্রি হতে দেখা যায়।
মেলার মাঠে অন্তত ২০টি প্রকাশনা সংস্থার স্টলে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের স্টলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কোনো বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে না। অথচ 'মুজিব জন্মশতবর্ষে' বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রকাশ করেছিল তারা।
বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদের বঙ্গবন্ধু ও মুজিবনগর সরকার, প্রাবন্ধিক স্বরচিত সরকারের বঙ্গবন্ধু ও বাংলা ভাষা, অধ্যাপক দিব্যদুতি সরকারের বঙ্গবন্ধুর কারাগার জীবন, সাইমন জাকারিয়ার সাধক কবিদের গানে বঙ্গবন্ধু। বইগুলো প্রশংসিতও হয়েছিল। তবে এবারের মেলায় বইগুলো নেই।

বঙ্গবন্ধুর বই বিক্রি বা প্রদর্শনে বাধা কোথায়?
মেলায় অংশ নেওয়া অন্তত ১০টি প্রকাশনা সংস্থার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম। তবে তারা কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাদের বক্তব্য অনেকটা একই রকম। একজন বললেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন জায়গায় তো বঙ্গবন্ধুর নাম বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রদর্শন বা বিক্রি করাটা এখনো নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।"
এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ভীতিকর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পুরোপুরি 'ভয়হীন পরিবেশ' এখনো আসেনি বলে মনে করছেন তারা।
গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, "মানহীন বই সময়ের স্রোতে এমনিতেই হারিয়ে যায়। যেগুলো মানসম্পন্ন, তা টিকে থাকে। এটাই ইতিহাসের সত্য।"
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আওয়ামী লীগের সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অতিরঞ্জনের কারণে শত শত মানহীন বইও প্রকাশ হয়েছে। এগুলো এমনিতেই সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেত। আবার কিছু মানসম্পন্ন বইও আছে, যেগুলোর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক বেশি।
“সেই বইগুলো এখন 'মব' বা নানান রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে না, তবে সেগুলো হারিয়ে যাবে না। সমঝদার পাঠক সেই বইগুলো নানাভাবে সংগ্রহ করবেন।"

এবারের মেলায় মহিউদ্দিন আহমদের লেখা প্রথম উপন্যাস 'শেখ মুজিবের লালঘোড়া' প্রকাশ করেছে অনন্যা। এছাড়া 'হাসিনা' নামে আরেকটি বই প্রকাশ করেছে বাতিঘর। বইটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং তার শাসনকালের একটি গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ রয়েছে৷
লেখক ও গবেষক সালেক খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "অসম্মানমূলক ঘটনা ঘটিয়ে আপনি কখনোই সম্মানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। জুলাই গণঅভ্যুথানের পর তো আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে অসম্মান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে।
“ফলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলা, প্রচার বা প্রকাশে একটা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তখন থেকেই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে চিন্তা করার সুযোগ নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অতিরঞ্জিত অনেক কিছুও আমরা দেখেছি। তাকে নিয়ে প্রচুর মানহীন বইও প্রকাশিত হয়েছে তখন।
"অন্তর্বর্তী সরকারের সময় 'মব সন্ত্রাসের' নানা ঘটনায় প্রকাশকরা হয়ত এখনো ভীতির মধ্যে আছেন। এটাই বাস্তবতা। ইতিহাসে যার যতটা অবদান ছিল তা তুলে ধরতে হবে। এর জন্য রাষ্ট্রেরও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।
“সব মত ও পথের কথা বলবার অধিকার রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু, ভাসানী, জিয়াউর রহমান কিংবা তাজউদ্দীন আহমেদের মত মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কদের নিয়ে নির্ভয়ে গবেষণা করার পরিবেশ থাকতে হবে। একটি স্বাধীন দেশে শত মতের শত ফুল ফুটতে দিতে হবে।"
মেলায় নির্দিষ্ট কোনো বই রাখা কিংবা না রাখা নিয়ে ‘কোনো নির্দেশনা নেই’ বলে জানিয়েছে মেলা পরিচালনা কমিটি।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, "মেলার নীতিমালা মেনে সৃজনশীল বই বিক্রি বা প্রদর্শন করতে কোনো বাধা নেই। নির্দিষ্ট কোনো বই নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

ছুটির দিনে বইমেলায় ভিড়
শুক্রবার ছিল বইমেলার নবম দিন। মেলা চলে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর।
এদিন মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১৯৯টি। 'লেখক বলছি' অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মৃদুল মাহবুব ও এহসান মাহমুদ।
সকাল থেকে নানা বয়সী মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে বইমেলায়। বেলা সাড়ে ১১টায় বাবার কাঁধে বসে পুতুলনাট্য উপভোগ করছিল ছোট্ট মাইশা, পাশ থেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিল তার মা।
পুতুলনাট্য দেখে ভালো লেগেছে বলে জানায় মাইশা। এবারের মেলায় শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণই ছিল পুতুলনাট্য।
দুপুর গড়াতেই বাড়তে থাকে জনসমাগম। এবারের মেলার সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়েছে শুক্রবার।
জন্মশতবর্ষে কলিম শরাফী
বিকেল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ: কলিম শরাফী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অণিমা রায়। আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা। সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ।
অণিমা রায় বলেন, “কলিম শরাফী সেই বিরল প্রতিভার অন্তর্গত, যার কণ্ঠস্বর সংগীতের সুষমা বহনের পাশাপাশি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের সংকটময় মুহূর্তে হয়ে উঠেছিল অস্তিত্ব—সংরক্ষণের উচ্চারণ। তিনি যেমন দীর্ঘকাল সংগীত সাধনা করেছেন, তেমনি সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
“রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক অবদমনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল অনমনীয়। অন্যদিকে, সংগীতের শুদ্ধতা ও সংযমে অবিচল থেকে এক আদর্শনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন।”
তিনি বলেন, “কলিম শরাফীর কণ্ঠস্বর সেই বিরল ধারার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে নান্দনিকতা কোনো চটুল প্রদর্শন নয়, বরঞ্চ এক নৈতিক অনুশাসন। তিনি শিল্পকে অভিজাত পরিসরের একচ্ছত্র সম্পদ হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প—সংগীতের আসল অধিকারী সাধারণ মানুষ-যাদের শ্রমে সমাজের কাঠামো নির্মিত হয়। এই বিশ্বাস তাকে শিল্পকে গণমুখী করার প্রয়াসে উদ্বুদ্ধ করে।"
সাইম রানা বলেন, "শিল্পী হিসেবে কলিম শরাফী সচেতনভাবে রাজনীতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব ও দরাজ কণ্ঠ দিয়ে তিনি মানুষকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
“রবীন্দ্রসংগীত আন্দোলনের পাশাপাশি সাংগঠনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও এদেশে কিশোর—তরুণদের সংগীতচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি জনমানুষের জন্য সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং তার নিজের বীক্ষণ ও প্রজ্ঞাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।”
সাধন ঘোষ বলেন, "কলিম শরাফী ছিলেন বাংলাদেশের একজন সর্বজনীন সংগীতগুরু। তার বহুমাত্রিক প্রতিভা দিয়ে তিনি আমাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন। তার সংগীতের মাঝে একজন সত্যিকারের সংগীত সাধকের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়।"
প্রতিযোগিতা ও গান-কবিতার আয়োজন
সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু—কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ক’ শাখায় ১০ জন, ‘খ’ শাখায় ১০জন এবং ‘গ’ শাখায় ১০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন নাসিম আহমেদ, টিটো মুনশী এবং অনন্যা লাবণী পুতুল।
বিকেল ৪ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শাহীন রেজা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শওকত আলী, রবিউল মাশরাফী, রূপশ্রী চক্রবর্তী এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব চন্দ্র ঘোষ, মো. হারুনুর রশিদ, সঞ্চিতা রাখি, মো. রমজান হোসেন, শিরিন জাহান, রতন কুমার সাহা এবং নূরতাজ পারভীন।
যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন এস এম জিয়াউর রহমান (তবলা), আনোয়ার সাহাদাত রবিন (কিবোর্ড), ফায়জুর রহমান (বাঁশি) এবং মেহেদী ইসলাম (অক্টোপ্যাড)।
শনিবার যা থাকছে
শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
মেলায় সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর।
এদিন একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হবে ‘জন্মশতবর্ষ: নূরজাহান বেগম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেবেন সোহরাব হাসান। সভাপতিত্ব করবেন লুভা নাহিদ চৌধুরী।
বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।