২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন সাংসদদের শপথ পড়াতে পারবেন রাষ্ট্রপতি ‘মনোনীত ব্যক্তি’: আসিফ নজরুল

“স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার দ্বারা শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 06:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’ দ্বারা শপথ পড়ানোর কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আর নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব আইন-কানুন তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। 

তিনি বলেন, “আমাদের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন ইনশাআল্লাহ, ১২ তারিখের ইলেকশনের পরে, তাদের শপথ গ্রহণ করার কথা হচ্ছে স্পিকারের কাছে। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের কাছে। ওনারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে।

“এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ আর একজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন। বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় ওনাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করানোর কোনো রকম সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। 

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। 

তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন শামসুল হক টুকু। তিনি এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে, নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে একধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “আমাদের আইনে আছে, উনারা যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত, অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথটা না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন। এখন এটা সরকারি নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমি আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুইটা অপশনই আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “যেমন হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর যদি এটা না হয়, তাহলে আমাদের যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, উনি শপথ গ্রহণ করাবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটা সমস্যা হচ্ছে, তিন দিন ওয়েট করতে হবে। আমরা আসলে ওয়েট করতে চাই না। আমরা নির্বাচন হওয়ার পরে যত দ্রুত সম্ভব, শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।”

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, “১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান, বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।”

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।”