১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পদ বিবরণী: গোলাপের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

তার আগে আদালত গোলাপ ও তার স্ত্রী-সন্তানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Sep 2025, 07:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের স্ত্রীর গুলশান আরা মিয়ার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ার অভিযোগে মামলার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

তিনি বলেন, গুলশান আরার সম্পদের উৎস ও যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য গেল ১৫ এপ্রিল তাকে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে বলা হয়। ২৩ জুলাই তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন করলে দুদক তাকে আরও ১৫ কার্যদিবস সময় দেয়। সে অনুযায়ী ২১ আগস্ট পর্যন্ত জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। তবে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি।

দুদকের মহাপরিচালক বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় তার (শুলশান আরা) বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।”

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের ২৫ অগাস্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবদুস সোবহান গোলাপকে ঢাকার নাখালপাড়া থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ ‘শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে গোলাপের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৫ টাকার জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ সম্পদ দখলে রেখেছেন। এছাড়া তার নিজ নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫১টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯৭ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ হয়েছে।

তার আগে, গত ১৯ জানুয়ারি আদালত গোলাপ, তার স্ত্রী গুলশান আরা, ছেলে ইভান সোবহান মিয়া এবং মেয়ে আনিশা গোলাপ মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেয়।

একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ পান।

এফএএস ফাইন্যান্সের সাবেক ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে 

একই স্থাবর সম্পদের বিপরীতে দুইবার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করে তা খেলাপি করার অভিযোগে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের নয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার করার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।

অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, এফএএস ফাইন্যান্সের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও মেসার্স ম্যানট্রাস্ট প্রোপার্টিজ (প্রাইভেট) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ‘অনিয়মের মাধ্যমে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আড়ালে একই স্থাবর সম্পদের বিপরীতে দুইবার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন’। বিতরণ করা ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ঋণ বর্তমানে সুদ-আসলে ৬ কোটি ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ অর্থ খেলাপি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যাদের আসামি করা হচ্ছে, তারা হলেন- ম্যানট্রাস্ট প্রোপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম, এফএএস ফাইন্যান্সের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার নিয়াজ আহম্মেদ ফারুকী, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. হাফিজ, সাবেক পরিচালক উজ্জ্বল কুমার নন্দী, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সিদ্দিকুর রহমান। 

পুরনো খবর:

আওয়ামী লীগের গোলাপ গ্রেপ্তার

দেশে ও বিদেশে ৬৮ কোটি টাকার 'অবৈধ সম্পদ' আওয়ামী লীগের গোলাপের: দুদক