১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটারদের জবরদস্তি করলে প্রভাব পড়ে স্থিতিশীলতায়: ব্রিটিশ এমপি ব্ল্যাকম্যান

“যে কোনো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি ও জনআস্থার ওপর।”

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jan 2026, 11:52 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:49 PM

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যেভাবে গণভোট হতে যাচ্ছে, তাতে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি দেখছেন ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান।

এ গণভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক দিকনির্দেশনায় মৌলিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জবরদস্তির’ মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং তাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্থিতিশীলতার ওপর ‘নেতিবাচক প্রভাব’ পড়তে পারে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স জানিয়েছে, বুধবার হাউস অব লর্ডসে ‘বাংলাদেশ অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সেমিনারে ব্ল্যাকম্যান এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে বিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করলেও পটপরিবর্তনের পরের ঘটনাপ্রবাহ গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।”

রাজনীতিতে বিরোধীদের বাদ পড়া, তাদের অনুপস্থিতিতে পরিচালিত আইনি কার্যক্রম এবং বিরোধী নেতাদের ওপর ‘চাপ প্রয়োগের’ অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

ব্রিটিশ এমপি ব্ল্যাকম্যান জোর দিয়ে বলেন, “যে কোনো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি ও জনআস্থার ওপর।”

জনমত জরিপের ভিত্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো এমন রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন করে, যারা বর্তমানে স্বাধীনভাবে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে না।

“যদি রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে গণতন্ত্র নিজেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।”

ব্ল্যাকম্যান বলেন, বর্জন, নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক বঞ্চনা শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ‘গভীর ও ঐতিহাসিক’ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের কথা বলেন।

“বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নেতা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) স্বাধীনতার পর তার প্রথম দিকের আন্তর্জাতিক সফরগুলোর একটি যুক্তরাজ্যে করেছিলেন—যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে তুলে ধরে।”

মানবাধিকার প্রসঙ্গে ব্ল্যাকম্যান হিন্দু, খ্রিস্টান এবং সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়সহ ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ এবং ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় ধ্বংসের ‘প্রমাণ’ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এগুলো সোশাল মিডিয়ার মনগড়া গল্প নয়; বরং বাস্তব ভুক্তভোগীদের নিয়ে নথিভুক্ত ঘটনাবলি।

ব্ল্যাকম্যান যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা এসব বিষয়ে স্থানীয় এমপিদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের কাছ থেকে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এই এমপি।

হাউস অব লর্ডসের কমিটি রুম–৩-এ এ সেমিনার আয়োজন করেন লর্ড রামি রেঞ্জার। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে পলিটিকা নিউজ, সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স এবং নর্থ্যাম্পটন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস চেম্বার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নর্থ্যাম্পটন টাউনের কাউন্সিলর নাজ ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন লর্ড রামি রেঞ্জার। সেমিনার পরিচালনা করেন পলিটিকা নিউজের প্রধান সম্পাদক তানভীর আহমেদ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় কুমার রায়।