১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সোহায়েল ও আহমদ চার দিনের রিমান্ডে

যুবদল নেতা নবীন তালুকদার হত্যা মামলায় তাদের রিমান্ডে পেয়েছে পল্টন থানা পুলিশ।

সোহায়েল ও আহমদ চার দিনের রিমান্ডে
মোহাম্মদ সোহায়েল ও আহমদ হোসেন

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2024, 04:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:18 AM

নৌবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত চট্টগ্রাম বন্দরের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে যুবদল নেতা নবীন তালুকদার হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান বুধবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে  ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে এসআই নাজমুল বলেন, “আসামী দুজন ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মাস্টার মাইন্ড। তাদের পরিকল্পনায় ও মদদে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে মো, নবীন তালুকদারকে হত্যা করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।” 

মামলায় রাষ্ট্র পক্ষকে সহায়তা করার জন্য শুনানি করেন বিএনপিপন্থি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।

তিনি বলেন, “আসামীদ্বয় এজাহারভুক্ত নয়। তবে তাদের একজন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও অপরজন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তাদেরকে সর্বোচ্চ জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”

শুনানির সময় দুই আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তবে তাদের কণ্ঠ এতটাই অনুচ্চ ছিল যে এজলানের পেছন থেকে তা বোঝা যায়নি। 

প্রায় ২০ মিনিট শুনানি শেষে দুজনের জন্যই চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

এই দুই জনের মধ্যে সোহায়েলকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার বনানী থেকে এবং আহমদকে রামপুরা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছে পুলিশ। গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। 

২০১০ সাল থেকে দুই বছর র‌্যাবের আইন ও গনমাধ্যম শাখার পরিচালক থাকার সময় ব্যাপক পরিচিতি পান সোহায়েল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চাকরিতে তার দ্রুত উন্নতি ঘটে।

দুর্নীতি, জোরপূর্বক আটকে রেখে নির্যাতন, হত্যা, গুমসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর গত সোমবার সোহায়েলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা জানায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, এর একদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হল।

সরকার পতনের পর গত ৭ আগস্ট বন্দর চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে তাকে নৌবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিনের কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।

২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ সোহায়েল কমোডর থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি পান। অভিযোগ ওঠে, কোনো জাহাজ বা ঘাঁটি কমান্ড কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কোর্স না করেই শেখ হাসিনা সরকারের আনুকূল্যে রিয়ার অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

মোহাম্মদ সোহায়েল এক বছরের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছরের ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ আসনে জিতে সংসদের টিকিট পান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পাঁচ বারের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে তিন বার সহসম্পাদক এবং পাঁচ বার সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।