Published : 09 Aug 2026, 05:33 PM
কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় সরকারপ্রধান সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্পের পুরো বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফিং করা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কের অবহিত হন।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ গভীর সমুদ্র বন্দরের ঊধর্তন কর্মকর্তারা।
এর আগে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চেপে মাতারবাড়ীতে পৌঁছান। হেলিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন
মাতারবাড়ীতেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তার সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
“প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে থেকে নেমে প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বৈঠক করেন। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্লান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।”
প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী একটি নিমের চারা রোপণ করেন।
এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট আছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন বলে জানান নাজমুল হক খান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কয়লা জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপির বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা।