Published : 21 Aug 2026, 07:27 PM
চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হয়েছে মেকং–লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভাল।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আন্তর্জাতিক উৎসবে আটটি দেশের ফল ও কৃষিপণ্য নিয়ে বসেছে ৯৪টি স্টল।
কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের এ আয়োজনে বাংলাদেশের স্টল ঘিরে স্থানীয় দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘ব্যাপক আগ্রহ’ দেখা যাওয়ার কথা বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক কৃষি ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবে মেকং অঞ্চলের ছয় দেশ চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াও অংশ নিয়েছে।
বাংলাদেশ এবারের উৎসবের সহ-আয়োজক।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজ নিজ দেশের বৈচিত্র্যময় ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থাও করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, গত বছরের ফল উৎসবের পর বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
“এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”
শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালীন বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি প্রটোকল স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
“বাংলাদেশের আম ইতোমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে পেয়ারা ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।”
ইউনানকে বাংলাদেশের তাজা কৃষিপণ্যের জন্য চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।
‘বড় বাজার ভাগাভাগি, চীনে রপ্তানি’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেকং–লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, কৃষি ও বাণিজ্য খাতের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লানচাং–মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জি, কুনমিংয়ে কম্বোডিয়ার কনসাল জেনারেল হেং পিসাল, থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি চ্যানউইট রুয়াংচাইথাওয়েসুক, ভিয়েতনামের কনসাল জেনারেল নঘিয়েম ভিয়েত চুং এবং ইউনান প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ কে বিন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আয়োজকরা আশা করছেন, এ উৎসব অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ উৎসব চলবে ২৩ অগাস্ট পর্যন্ত। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য, কফি, ফুল ও অন্যান্য পণ্য দেখার পাশাপাশি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
আগের খবর: