Published : 21 Oct 2025, 09:47 PM
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অন্তত ১০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা বলেছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে আইআরআইর প্রতিনিধিরা এ কথা বলছেন।
পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
আইআরআই-এর বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সদস্য ও প্রতিনিধি দলের প্রধান ক্রিস্টোফার জে. ফাসনার বলেন, “আমরা ফেব্রুয়ারিতে একটি শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনা করব। নির্বাচনি পর্যবেক্ষক মোতায়েন ভোটের সময় সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।”
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি (সিএনএএস)-এর ইন্ডো-প্যাসিফিক সিকিউরিটি প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো ও ডিরেক্টর লিসা কার্টিস, আইআরআইর ডেমোক্রেটিক ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিক্যাল প্রসেস বিষয়ক টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জেসিকা কিগান, আইআরআইর রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্টিভ সিমা এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জামি স্পাইকারম্যান।
সফররত প্রতিনিধিদলটির ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পূর্ববর্তী পরিবেশ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে আইআরআইর প্রতিনিধিদল তাদের পূর্ববর্তী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনি সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় করে। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফাসনার বলেন, “সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার ইতিবাচক একটি পরিবেশ দেখা যাচ্ছে, যা সত্যিই উৎসাহজনক। আমরা স্পষ্টভাবে পার্থক্য অনুভব করতে পারছি।”

প্রতিনিধিদলটি বলেছে, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে নাগরিক সমাজের সদস্য, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মতো স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা নির্বাচনের সময় মিথ্য তথ্যর ঝুঁকিও তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি হল ভুল তথ্য বা ডিসইনফরমেশন। এটি পরিকল্পিতভাবে ও অর্থায়িতভাবে ছড়ানো হয়, যা মুহূর্তেই উত্তেজনা সৃষ্টি করে। সত্য প্রকাশ পেতে পেতে মানুষ ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলে।”
ক্রিস্টোফার ফাসনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি ও জনমত পরিচালনার ঝুঁকি সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশ ‘শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এটি অনেক তরুণের জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বয়স ২৭ বছরের নিচে, তারা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবে। আমরা চাই তারা সন্তুষ্ট থাকুক। নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।”
মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় জুলাই সনদকে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলই সংস্কারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার জানিয়েছে। এটি আমাদের নির্বাচনের আরও এক ধাপ কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।”
“বেশিরভাগ দল ইতোমধ্যে সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং অন্যরাও শিগগিরই করবে বলে আশা করছি,” যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আইআরআই প্রতিনিধিদল গত ১৫ মাসে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।