১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধ-বিগ্রহে ১৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত: আইওএম ডিজি

ঢাকায় প্রথমবারের মতো বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন প্রকাশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Feb 2025, 05:30 PM

Updated : 01 Sep 2026, 09:04 PM

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেছেন, বিশ্বের ২৮ কোটিরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ মানুষই যুদ্ধ-বিগ্রহ-সংঘাত ও নানা দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত, যা দুশ্চিন্তার বিষয়।

মঙ্গলবার ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২৪ প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যামি পোপ তার বক্তব্যে অভিবাসনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির যে ইতিবাচক দিক আছে তাও তুলে ধরেন।

“২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স বা প্রবাসীদের পাঠানো আয় ১২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬৫০ শতাংশ বেড়ে ৮৩১ বিলিয়ন হয়েছে। এই আয় বাংলাদেশসহ বহু দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি।”

২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা তার সদর দপ্তর জেনিভায় দ্বিবার্ষিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবারই প্রথম সুইজারল্যান্ডের বাইরে বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা প্রধান বলেন, এই প্রতিবেদনের প্রমাণভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণগুলো মানুষের গমনাগমনের অন্তর্নিহিত রহস্য বুঝতে সাহায্য করে, যা অনিশ্চিত বিশ্বে সিদ্ধান্ত ও কার্যকর নীতি প্রণয়নের জন্য খুবই জরুরি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ১৩ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

“কক্সবাজারে তাদের আশ্রয় এলাকা মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং জঙ্গিবাদের ‘ব্রিডিং গ্রাউন্ড' হিসেবে ব্যবহার- শুধু দেশেরই নয়, আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য অ্যামি পোপকে ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকট নিরসনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বড় ভূমিকা রাখবে।

ইউক্রেইন যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে উদ্বাস্তু হওয়া হাজার হাজার মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা আমলে নেওয়া ও সমাধানের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা এখন সময়ের দাবি।”

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার নার্দিয়া সিম্পসন, বাংলাদেশে আইওএম মিশন প্রধান আব্দুসসাত্তার এসোয়েভ অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।