স্কুলে শিক্ষার্থী কমছে, মাদ্রাসায় কেন বাড়ছে?

অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গেও মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ার যোগসূত্র দেখছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ।

কাজী নাফিয়া রহমানবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 March 2024, 07:34 PM
Updated : 31 March 2024, 07:34 PM

ঢাকার মিরপুরের একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে এ বছর মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে সাদেকা জাহান অপ্সরা। এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউট ছেড়ে এই শিক্ষার্থী এখন পড়ছে রূপনগরের ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট মাদ্রাসায়। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপ্সরার মত বেশ কিছু শিক্ষার্থী পেয়েছে দেশের মাদ্রাসাগুলো, যা এই মাধ্যমের শিক্ষার পরিসর কিছুটা বাড়িয়েছে। 

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চার বছরের ব্যবধানে মাদ্রাসায় প্রাথমিক পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে শিক্ষার্থী বেড়েছে আড়াই লাখের কিছু বেশি। এ তথ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর। এর বাইরেও কওমি মাদ্রাসায় কত শিক্ষার্থী পড়ছে, সেই সংখ্যা আসেনি এখানে। 

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো- ব্যানবেইসের যে পরিসংখ্যান মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ার তথ্য দিচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে একই সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী কমেছে ১০ লাখের কিছু বেশি। 

গাজীপুরের একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, “আগে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী খুঁজতে হত, কিন্তু এখন এমনিতেই মাদ্রাসায় অনেক শিক্ষার্থী আসছে।” 

পরিসংখ্যান যা দেখাচ্ছে 

ব্যানবেইসের তথ্য বলছে, গত দেড় দশকে দেশে স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।

মাদ্রাসার সংখ্যা কমলেও বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০১৯ সালে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ছিল ২৪ লাখ ৯১ হাজার ২৬৮ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৪ জনে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন। 

শিক্ষার্থী কিছুটা বেড়েছে কারিগরিতেও। ৭ লাখ থেকে বেড়ে সাড়ে সাত লাখের কাছাকাছি হয়েছে। 

একই সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯২ লাখ ৩ হাজার ৪২৭ জন থেকে কমে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৮ জনে। অর্থাৎ চার বছরে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষার্থী কমেছে মাধ্যমিকে স্কুলে।

এই ১০ লাখের মধ্যে দৃশ্যত লাখ তিনেক মাদ্রাসা ও কারিগরিতে এসেছে। বাকি সাত লাখ দৃশ্যত ঝরে পড়েছে। তবে বেনবেইসের পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে এই সময়ে ঝরে পড়া কমেছে তিন শতাংশ। 

গত ২৪ মার্চ প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২৩’-এও সাধারণ শিক্ষার বিপরীতে মাদ্রাসা শিক্ষার পরিসর বাড়ার চিত্র এসেছে। 

তাতে দেখা যায়, শেষ তিন বছরে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থী কমলেও কারিগরি শিক্ষায় কিছুটা বেড়েছে। আর ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। 

বাংলাদেশের শিক্ষার ক্ষেত্র (শতাংশ)

মহামারী ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব? 

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন এক সময়ে সংখ্যাগত বড় পরিবর্তন ঘটে গেছে, যখন কোভিড মহামারীর নানামুখী ধাক্কা সামলাতে হয়েছে এবং হচ্ছে। 

মহামারীতে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে দেড় বছর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। আর কোভিডের পরপরই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলে। এছাড়া দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বহু মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানোকে কঠিন করে ফেলেছে। 

সংকটময় পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গেও মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ার যোগসূত্র দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২৩’-এ দেখা যায়, দেশে এখনও ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ মানুষ শিক্ষার বাইরে রয়েছে। গত তিন বছরে এই সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষ (৫-২৪ বছর)

এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত তিন গুণ বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে লেখাপড়া ছাড়ার হার ছিল ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। 

এমন বাস্তবতা যে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ায়, সে চিত্র ধরা পড়েছে ২০২২ সালে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায়। তাতে দেখা যায়, কোভিডের সময় দেশে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে, তখন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেড়েছে। 

লেখাপড়া ছাড়ার হার (৫-২৪ বছর)

সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিশ্লেষণ, এ পরিস্থিতিতে সরকারের যা করার কথা ছিল, সেই জায়গাগুলোতে কাজ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

“করোনার সময় থেকেই মানুষের আয় কমে গেল। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়ল। পড়াশোনার খরচ অনেকে বহন করতে পারছিল না। সেই জায়গাটায় ভারসাম্য আনতে বাবা-মায়েরা তার ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে মাদ্রাসায় দিয়ে দিল।” 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, কুমিল্লায় তার দাদার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ আশপাশের অভিভাবকদের আর্থিক অবস্থা ‘দুর্বল’।

মাদ্রাসাগুলোর ব্যবস্থাপনা যে এসব পরিবারকে আগ্রহী করছে, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক মাদ্রাসায় থাকা-খাওয়ার সুবিধা থাকে। এতিমখানা থাকে। দিনমজুর বাবা-মার জন্য এসব মাদ্রাসা ডে কেয়ারের মত কাজ করে।” 

মাদ্রাসার মত স্কুলগুলোতেও আবাসিক ও এতিমখানার মত ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন সাদেকা হালিম। 

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মনে করেন, আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় অনেক মাদ্রাসায় করোনাভাইরাসের সময়ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পেরেছে। আর সাধারণ শিক্ষায় দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তার সুযোগ না থাকায় তারা মাদ্রাসা শিক্ষায় ঝুঁকছে। 

তার পর্যবেক্ষণ, মহামারীর সময় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সাধারণ মাধ্যমের স্কুলগুলো তার সমাধান করতে পারেনি। 

“মাদ্রাসাগুলোতে যে পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, সেটা আমাদের স্কুলগুলোতে দেওয়া হয় না। আমাদের দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য একটা বেশ ভরসার জায়গা হচ্ছে মাদ্রাসা। সেটা আমাদের মাধ্যমিক স্কুলগুলো হতে পারেনি। এক ধরনের দূরত্ব আছে।” 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এমিরিটাস অধ্যাপক বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম ‘দৃষ্টান্ত’ হতে পারে। 

“মাধ্যমিক স্কুলে প্রাইভেট পড়ার যে পরিমাণ প্রয়োজন হয়, সেটা মাদ্রাসায় প্রয়োজন হয় না। এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে বাংলা মাধ্যমে যে পরিমাণ টিউশন করাতে হয়, তাতে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মাদ্রাসায় এটা নেই। 

“যেটুকু শিক্ষা, সেটা তারা মাদ্রাসায় নিয়ে নেয়। শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য এটাই ছিল। যা শেখাবে, স্কুলেই শেখাতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন সিন্ডিকেট, নোটবই, গাইডবই ব্যবসায়ীরা, কোচিং সেন্টারের ব্যবসায়ীরা- কয়েক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করে।”

মাদ্রাসায় পড়লে চাকরি হবে না, এমন ধারণা ভেঙে যাওয়াকেও এ মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাড়ার কারণ হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক মনজুরুল। 

তিনি বলেন, “মাদ্রাসাগুলোয় এখন অনেক বিষয়ে পড়ানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রথম হচ্ছে। তার মানে কিছু কিছু মাদ্রাসায় ইংরেজি, কম্পিউটার সবকিছু শিখিয়ে তারা একটা অবস্থানে চলে গেছে। 

“মাদ্রাসা শিক্ষা মোটামুটি মান অর্জন করে ফেলেছে। যদি তাদের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হয়, তাহলে তো তারা ভালোই করছে।” 

আবার কয়েক বছর ধরে দেশে রক্ষণশীলতার প্রভাব বাড়ছে বলেও মনে করেন অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বহু পরিবার ভাবছে, সন্তানদের মাদ্রাসায় দিলে ধর্মের কাজ হয়। 

“মাদ্রাসায় শিক্ষকরা অনেক সময় মারধর করেন। কিন্তু শৃঙ্খলার বিষয়টি বাংলা মাধ্যমের স্কুলের চেয়ে বেশি। সেজন্য অনেক পরিবার হয়ত ভাবেন, ‘দেই বাচ্চাটাকে।” 

অভিভাবকরা কী বলছেন 

মিরপুরের সাদেকা জাহান অপ্সরার বাবা সাদেকুর রহমানের দাবি, নতুন শিক্ষাক্রম বুঝতে না পারায় তার সন্তানের পড়াশোনায় আগ্রহ ‘কমে যায়’। মাদ্রাসায় পাঠিয়ে তিনি এখন স্বস্তি বোধ করছেন। 

মাদ্রাসায়ও একই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে, এই শিক্ষার্থী সেখানে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছে- সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “স্কুলে পড়াশোনা হচ্ছিল না, বাধ্য হয়েই মাদ্রাসায় দিয়েছি। তারা অনেক গুছিয়ে ও বুঝিয়ে পড়াচ্ছে। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করে আসছে। বাসায় পড়ার চাপ দিতে হয় না, প্রাইভেট টিচারের প্রয়োজন পড়ছে না।” 

কুমিল্লার লাকসামের দৌলতগঞ্জ গাজী মুরাদ কামিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুন নাঈমের বাবা মাহমুদুল হাসান হাসিব বলেন, “এখন তো আর গতানুগতিক শিক্ষা নেই। জাগতিক শিক্ষাও নিতে পারছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভালো চাকরিতে আবেদন করতে পারছে। দুনিয়ার চিন্তার পাশাপাশি পরকাল নিয়েও ভাবার সুযোগ পাচ্ছে, তাইলে মন্দ কী?”

ফেইসবুক-ইউটিউবে ধর্মীয় বক্তব্য শুনেও অনেকে মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহী হওয়ার কথা বলেছেন। 

পাবনার ফরিদপুরের বেরহাউলিয়া গ্রামের রকিবুল ইসলামের তিন ছেলে-মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ছে। সন্তানদের ‘ইসলামের শিক্ষা’ দিতেই মাদ্রাসায় পাঠানোর কথা বললেন তিনি।

রকিবুল বলেন, "আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা আল্লাহকে, কোরআনকে চিনুক- যাতে কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারে। এখানে জেনারেল লাইনের জ্ঞানও আছে, আল্লাহর জ্ঞানটাও পাওয়া যায়।" 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মামুনুর রহমানের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে, আবার অঞ্চলভেদে এই আগ্রহে পার্থক্যও রয়েছে। 

তিনি বলেন, “একটি পরিবার তার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য যেটাকে ভালো মনে করে, সেখানেই পড়ায়। এখানে অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রধান।” 

মাদ্রাসায় ‘সুযোগ-সুবিধা’ও বাড়ছে 

ব্যানবেইসের গুণমান নির্দেশক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্কুলের তুলনায় মাদ্রাসায় প্রশিক্ষিত শিক্ষক অনেক কম। তবে গত চার বছরে স্কুলের মতই মাদ্রাসায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। 

২০১৯ সালের ৮৭ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৮৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ স্কুলে কম্পিউটার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে ৮২ দশমিক ৯৫ শতাংশ মাদ্রাসায় কম্পিউটার সুবিধা ছিল, সেটি বেড়ে হয়েছে ৮৪ দশমিক ২১ শতাংশ। 

তবে ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়া সুবিধা স্কুলে তুলনামূলক কমেছে।

২০১৯ সালে ৮০ দশমিক ৮৩ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট সুবিধা ছিল, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর মাল্টিমিডিয়া সুবিধা ৭৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৪৭ শতাংশে। 

অন্যদিকে ৭৫ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মাদ্রাসা এখন ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় এসেছে। মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া সুবিধা ৬৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে।

গাজীপুরের কাপাসিয়ার চেংনা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় কম্পিউটার সুবিধার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষকও রয়েছেন। 

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলছেন, তাদের শিক্ষার্থীরা এখন মাদ্রাসাতেই কম্পিউটার শিখতে পারছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সম্পর্কে শেখার সুযোগ পাচ্ছে। 

হবিগঞ্জের মাধবপুরের ইটাখোলা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির হোসেন বলছেন, ‘মুসলিম সেন্টিমেন্ট’ থেকে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের ভাবনা অনেককে মাদ্রাসা শিক্ষায় উৎসাহিত করছে। 

তিনি বলেন, “অভিভাবকদের অনেকে চিন্তা করছে, মাদ্রাসায় পড়ালে তার সন্তান মুসলিম ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ নিয়ে বড় হবে।” 

এই শিক্ষক জানান, গত কয়েক বছরে তার মাদ্রাসায় শ্রেণিভেদে ৮-২০ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষার্থী বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক এতিমখানায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও পড়ার ব্যবস্থা থাকায় দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পড়তে পারছে। 

তিনি বলেন, “মাদ্রাসায় ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। আবার শিক্ষার্থীদের বেতন, খরচ কম। এগুলোও শিক্ষার্থী বাড়ার কারণ।” 

দেশের শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসাগুলোর একটি ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা। 

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফারুক আহমদ জানান, তাদের সাড়ে ৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী কিছুটা বাড়লেও একে তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন না। 

ফারুক আহমদ মনে করেন, সুযোগ-সুবিধা বাড়ার উচ্চ শিক্ষা ও চাকরিতে সম্ভাবনা বাড়ায় অনেকে মাদ্রাসামুখী হচ্ছে। ধর্মীয় আগ্রহ বাড়া ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়াকেও বিবেচনায় আনতে বলছেন তিনি। 

খুলনার পাইকগাছার গজালিয়া কালুয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেমের দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার মান বাড়ায় অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে। 

তিনি বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা আরও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারে।”