১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় ‘আক্ষেপ’ রেহমান সোবহানের

গণতন্ত্রের পাশাপাশি ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা কামাল হোসেনের রাজনৈতিক বিশ্বাসের অংশ ছিল বলে মনে করেন রেহমান সোবহান।

কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় ‘আক্ষেপ’ রেহমান সোবহানের
ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কামাল হোসেনকে সংবর্ধনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 11:47 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

প্রবীণ আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ কামাল হোসেনের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার না দেওয়ায় ‘আক্ষেপ’ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা কামাল হোসেনের সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তিনি।

রেহমান সোবহান বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবনের শুরু। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইনজীবী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

“মাঝে মাঝে কথা হয়েছে, কামালকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া উচিত ছিল কি না। বিগত সরকার সংবিধানের যে ড্রাফটসম্যান ছিলেন, অর্থাৎ যিনি হাতে লিখে সংবিধানের খসড়া তৈরি করেছিলেন, তাকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। কিন্তু এই যে সংবিধানের মেইন অথর ছিলেন, তাকে কোনো পরিচয় দেওয়া হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এভাবেই দেশের ইতিহাস চলে।”

গণতন্ত্রের পাশাপাশি ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা কামাল হোসেনের রাজনৈতিক বিশ্বাসের অংশ ছিল বলে মনে করেন রেহমান সোবহান।

গণফোরামের এমিরেটাস সভাপতি কামাল হোসেনকে ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার’ দাবি তুলে ধরা হয় ওই অনুষ্ঠানে।

৮৮ বছর বয়সি কামাল হোসেন নামকরা আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনি পরামর্শক ও আর্বিট্রেটর। পেট্রোলিয়াম নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কয়েকটি দেশের সরকারকে পরামর্শ সেবা দিয়েছেন।

তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন কামাল হোসেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর সরকারের আইনমন্ত্রী, পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগ ছাড়ার পর ১৯৯২ সালে তার হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে গণফোরাম। কামাল হোসেন তার পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানেন ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর।

সবশেষ ২০২৪ সালে দলের নতুন কমিটিতে কামাল হোসেনকে এমিরেটাস সভাপতি বানানো হয়।

কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে বলেন, “সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ বলা হলেও বিগত সময়ে জনগণই ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও উপেক্ষিত হয়েছে।”

গণফোরাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, “বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই দলটির লক্ষ্য। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও বক্তব্য দেন।