Published : 19 Jul 2026, 11:41 PM
বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ বাক্য যুক্ত করার পাশপাশি চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের জলছাপ বসানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণার প্রায় দুই মাস পর রোববার মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা এল।
নির্দেশনায় বলা হয়, ই পাসপোর্ট বুকলেটে থাকা ছবি পুনর্বিন্যাস করে এর নকশায় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন বিষয়ে চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এসব বিষয়ে গত ২৪ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাসপোর্টে জলছাপ পরিবর্তনের আভাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এগুলোকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছে। এগুলোতে পরিবর্তন আসছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি থাকবে।"
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠার জলছাপ পুনর্বিন্যাস করে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে ৩৮টি ক্রমিক নম্বর রয়েছে। এর মধ্যে ২০ নম্বর ক্রমে ৩০ ও ৩১ পৃষ্ঠায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের জলছাপ বসানোর কথা বলা হয়েছে।
আর পাসপোর্টের ডেটা পেইজে (ক্রমিক ৩) থাকবে ‘ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ক্ষেত্রে বৈধ’ বাক্যটি।
বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টে এক সময় লেখা থাকত, ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরায়েল, তাইওয়ান অ্যান্ড দ্য রিপাবলিক অব সাউথ আফ্রিকা’ কথাটি।
পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাইওয়ানের নামটি ওই নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ গেলেও ইসরায়েল থেকে যায়।
পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েলের নাম বাদ দেওয়া হয় ২০২১ সালের মে মাসে; আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে। তখন থেকে লেখা শুরু হয়, এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের ক্ষেত্রে বৈধ।
‘ইসরায়েল ব্যতিত’ বাক্যটি বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পাসপোর্টের ‘আন্তর্জাতিক মান’ রাখতে গিয়ে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এবারের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্টের প্রথম সাইড কাভারে সম্মুখভাগে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এই পাতার ভেতরের অংশে জাতীয় স্মৃতিসৌধ থাকছে আগের মতো।
নাম প্রকাশ না করে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, “নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে একটু সময় লাগবে।”
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এখনো আমাদের বেশ (পাসপোর্ট) মজুদ আছে। এগুলো শেষ হওয়ার পর বলা যাবে কতদিন লাগতে পারে।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিদিন ২৪ থেকে ২৫ হাজার পাসপোর্ট ডেলিভারি করা হয়। এসব পাসপোর্টের জলছাপসহ সব প্রিন্ট বিদেশ থেকে করে আনা হয়। বাঁধাই হয় বাংলাদেশে।
“আমরা একবারই প্রায় এক থেকে দেড় বছরের জন্য মজুদ করে রাখি।”
তবে পাসপোর্ট ছাপার পরবর্তী ‘অর্ডার’ নতুন সিদ্ধান্তের আলোকে হবে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
পুরনো খবর