Published : 08 Nov 2025, 04:59 PM
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আমূল পরিবর্তনের ফলে এখন রোগ নির্ণয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বহু দেশেই ভূমিকা রাখছে; বাংলাদেশেও এ ধরণের সেবা দিতে বন্ধু রাষ্ট্র জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএমইউ।
শনিবার ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অফ পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন’ এর ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত রোগ আইবিডি বা ‘ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ’ নির্ণয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগার প্রসঙ্গ টানেন।
আগের দিনের একটি সেমিনারে আলোচনার প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, “সেমিনারটি ছিল প্যাথলজি সেমিনার, ইন্টার্ন প্যাথলজিস্টদের সেমিনার, তারা এটি করছে রয়্যাল কলেজ অব প্যাথলজিস্টের সহযোগিতায়। সেখানে একজন অধ্যাপক ছিলেন, যিনি রয়্যাল প্যাথলজিস্টদের সভাপতি ছিলেন।
“আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি যে, আমাদের এমন কোনো ‘টুল’ বা ‘কি’ তৈরি করতে হবে, যাতে আমরা আইবিডি আর যক্ষ্মার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে এটি পার্থক্য করা খুব কঠিন।”
এক্ষেত্রে জাপানিরা ‘অনেক এগিয়ে’ মন্তব্য করে তাদের সহায়তা চান ডা. আজাদ।
তিনি বলেন, “প্রায়ই আমরা প্রথমে যক্ষ্মার চিকিৎসা করি। তারপর রোগীকে আইবিডির চিকিৎসা দিই। আজ যখন আমি এই সেমিনারে অংশ নিই, তখন দেখেছি যে জাপানিরা এই বিষয়ে অনেক এগিয়ে।
“তাই আমি অনুরোধ করব যে তারা এই বিষয়ে (বাংলাদেশকে) সাহায্য করতে পারে।”

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিএমইউকে ‘রোগ নির্ণয়ে এআই টুল ব্যবহারে সাহায্য করতে চান’ বলে তুলে ধরেন এই অধ্যাপক।
একই সঙ্গে সেমিনারে অংশ নেওয়া জাপানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি জাপানের প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করছি—যদি আপনারা আমাদের সাহায্য করেন এআই বা অন্য কিছু নিয়ে একটি কন্ট্রোল বিভাগ তৈরি করতে, তাহলে এটি আমাদের রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করবে। কারণ আজ আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে যারা কাজ করছি তারা এ নিয়ে সমস্যায় পড়ছি।”
জাপান এ বিষয়ে আরও ১০ থেকে ১৫ বছর আগ থেকে গবেষণা ও অনুসন্ধানমূলক কাজ করছে বলে তারা এখন বিশ্বেও অনেকটা সম্মুখসারিতে রয়েছে বলে তুলে ধরেন বিএমইউ উপ-উপাচার্য।
বিএমইউ শিক্ষকদের এ বিষয়ে গবেষণা বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।
এদিনের সেমিনারটি শিশুদের গ্যাস্ট্রিক, লিভার রোগ ও পুষ্টি সম্পর্কিত সমস্যার প্রতিকার, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সর্বাধুনিক চিকিৎসার উপর হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে থাকছে বৈজ্ঞানিক সেমিনারসহ নানা আয়োজন।
সম্মেলনে শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রশন বিষয়ের ছয় শতাধিক শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রশনের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম বজলুল করিম।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর অপর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহরীন আখতার, বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান।